কপারটেকের আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখবে ডিএসই

শনিবার, ১৮ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজারে তালিকভুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যালেন্স শিটসহ আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রকিবুর রহমান। পর্ষদ সভা শেষে রকিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কপারটেক নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) থেকে অভিযোগ আকারে একটি অবজারভেশন (পর্যবেক্ষণ) পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে কপারটেক নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তারই ভিত্তিতে ডিএসইর পক্ষ থেকে কপারটেকের পুরো আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে।

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগের মতো এবার প্রতিবেদন হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কপারপটেকের বিষয়ে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা সফলতার মুখ দেখবে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত করা হবে না। গত বছরের ডিসেম্বরে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। বিএসইসির অনুমোদন নিয়ে এরই মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণ করছে।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে রয়েছে নানা গরমিল।

কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের শুরুতে আদায়যোগ্য নগদ অর্থ বা রিসেভেবলস ছিল প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ওই বছরে পণ্য বিক্রি হয় ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার। পণ্য বিক্রি থেকে নগদ আদায় ৫০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। উপরন্তু অগ্রিম বিক্রি আরো প্রায় ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে ক্লোজিং রিসেভেবলস হওয়ার কথা ৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। এদিকে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। একইভাবে আর্থিক প্রতিবেদনে দেনা হিসাবে ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা দেখালেও কাঁচামাল ক্রয় এবং এর বিপরীতে পরিশোধ হিসাব করলে অঙ্কটা দাঁড়ায় ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা।

কপারটেকের দেয়া তথ্যে ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ৩৩ শতাংশ কমলেও সুদ ব্যয় বেড়েছে ২৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ছিল প্রায় ৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে তা নামে ২৬ কোটি টাকায়। কিন্তু আগের বছর যেখানে এ ঋণের বিপরীতে পৌনে ২ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করে, গত বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। একইভাবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ১৭ শতাংশ কমার বিপরীতে সুদ ব্যয় বেড়েছে ৪৬১ শতাংশ। সার্বিক হিসাবে ঋণ ২৬ শতাংশ কমলেও সুদ ব্যয় বেড়েছে ১৩৩ শতাংশ।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj