বই পরিচিতি : প্রকাশিত হলো সেলিনা হোসেনের কাঠকয়লার ছবির ইংরেজি অনুবাদ

শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৯

আশিক মুস্তাফা

সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘কাঠকয়লার ছবি’র ইংরেজি অনুবাদ ‘চারকোল পোর্ট্রেট’ প্রকাশিত হয়েছে দিল্লি থেকে। উপন্যাসের অনুবাদক তৃণা চ্যাটার্জি এবং জ্যাকি কবির। প্রকাশক পালিম্পসেস্ট পাবলিকেশন্স। বইটি প্রকাশনীর নির্দিষ্ট বুকশপ ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে অ্যামাজানে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধনির্ভর এই উপন্যাসে দেখা যায়- যুদ্ধ শেষে এক যুদ্ধশিশুকে দত্তক নিয়ে যায় জার্মান দম্পতি। দীর্ঘ ২৫ বছর পর জার্মানে বেড়ে ওঠা সেই শিশু তরুণ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে তার স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতে। তার জন্মভূমি, স্মৃতিকাতরাতা আর স্মৃতিমেধুরতা লেখক তুলে ধরেছেন তার কল্পনা আর বাস্তবতার সব রঙ মিশিয়ে। এই যুদ্ধশিশুর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি উপজাতীয় চা বাগান কর্মীদের স্বপ্ন, লড়াই ও তাদের পূর্বপুরুষদের দেশে ফেরার বাসনাসহ ভারতীয় উপমহাদেশে চা-এর ইতিহাস লেখক তুলে ধরেছেন কাঠকয়লার ছবিতে। এর আগে ২০১৬ সালে দিল্লির রূপা পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছিল সেলিনা হোসেনের আলোচিত উপন্যাস হাঙ্গর নদী গ্রেনেডের ইংরেজি অনুবাদ ‘রিভার অফ মাই ব্লুাড’। ফরাসি অধ্যাপক পাস্কাল জিন্ক ও বাংলাদেশি লেখক জ্যাকি কবির উপন্যাসটির অনুবাদক। বই দুটি সম্পর্কে সেলিনা হোসেন বলেন, ‘এপ্রিল মাসে দিল্লিতে প্রকাশনীর পক্ষ থেকে চারকোল পোর্ট্রেট আমার হাতে তুলে দেওয়া হয়। তখন মনের ভেতর অন্যরকম এক অনুভূতি খেলা করে এই ভেবে যে, এবার বিদেশি পাঠক আমার বইটি পড়তে পারবে। দিল্লিতে খুব সাড়াও পেয়েছি। দেশে আসার পর অনেকে মেইল এবং ফোন করে বই পাঠের মন্তব্য জানিয়েছে এবং জানাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর রিভার অফ মাই ব্লুাড অনুবাদের তো লম্বা ইতিহাস! ফরাসি অধ্যাপক পাস্কাল তার ক্লাসে পড়ানোর জন্য সাউথ এশিয়ার গল্প খুঁজছিল। পরে অনলাইনে এই উপন্যাসের খণ্ডাংশ পড়ে তা সে ছাত্রদেরও ক্লাসে পড়ায়। পরবর্তীতে পাস্কাল আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। অনেক কাঠখড় পেরিয়ে। তারপর সে নিজেই উপন্যাসটির অনুবাদে ঘষা-মাজাসহ প্রকাশনার দায়িত্ব নেয় নিজের ঘাড়ে। শুধু তাই নয়, প্রকাশের পর সেই আমাকে প্রথম জানিয়েছিল। আমি পাস্কালের এই আগ্রহ দেখে অভিভূত।’

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের যশোরের কালীগঞ্জ গ্রামের এক মায়ের সত্য ঘটনা অবলম্বনে সেলিনা হোসেন লিখেছিলেন উপন্যাস হাঙ্গর নদী গ্রেনেড উপন্যাসটি। ১৯৭২ সালে গল্পাকারে ঘটনাটি লিখেন এবং সমকালীন একটি পত্রিকায় গল্পটি ছাপাও হয়। পরে তিনি ১৯৭৪ সালে এসে গল্পটি উপন্যাস আকারে লিখেন এবং ১৯৭৬ সালে সেটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে।

হাঙ্গর নদী গ্রেনেডের অনুবাদ রিভার অফ মাই ব্লুাড ২৯৫ রুপি ও চারকোল পোর্ট্রটে ৫০০ রুপিতে অ্যামাজন থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj