সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ : ঋণে কেনা ৫০০ কোটি টাকার চিনি গুদামে

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে চিনি কিনে গুদামে ফেলে রাখার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ ব্যাখা চাওয়া হয়। কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ইসমাত আরা সাদেক, নারায়ন চন্দ্র চন্দ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, মির্জা আজম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মো. জিল্লুল হাকিম, মুহিবুর রহমান মানিক অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে সাংসদ মজাহারুল হক প্রধান বৈঠকে যোগ দেন। গতকালের বৈঠকে ঈদের আগেই দরিদ্র আখ চাষিদের বকেয়া প্রায় ১৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করার সুপারিশ করা হয়।

আ স ম ফিরোজ বলেন, ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কেন চিনি কেনা হলো? সেই চিনি এখনো কেন গুদামে? মিলের উৎপাদিত চিনি বিক্রি হয় না। অথচ দেশের বাইরে থেকে চিনি কিনে গুদামে ফেলে রাখা হয়েছে। কার স্বার্থে? এসব প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি করপোরেশন বা মন্ত্রণালয়। কমিটি এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী বৈঠকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঋণ নিয়ে এই চিনি কিনেছিল। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছর পর্যন্ত আখ চাষিরা করপোরেশনের কাছে ১১৯ কোটি টাকা পাবে। এর বাইরে বীজ সরবরাহকারীরা পাবে প্রায় ৩১ কোটি টাকা।

এদিকে বেসরকারি চিনি কারখানার মালিকরা নিয়ম ভঙ্গ করছেন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। নিয়ম অনুযায়ী বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত চিনির ৫০ ভাগ দেশের বাইরে বিক্রি করছে না। এই চিনি তারা দেশে বিক্রি করায় দেশীয় মিলে উৎপাদিত চিনি বিক্রি হয় না। এ বিষয়ে কমিটি বলছে, বেসরকারি চিনি কলগুলো যদি নিয়ম ভাঙে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া বৈঠকে কমিটি আখ কাটার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আখ মাড়াইয়ের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রটি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে আনা যায় কিনা তা নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনার পরামর্শ দেয়া হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীন কেরু এন্ড কোং মিল ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং রেনউইক, যজ্ঞেশ^র এন্ড কোং মিল এক কোটি ৬ লাখ টাকা লাভ করেছে। করপোরেশনের অধীন বাকি ১৪টি প্রতিষ্ঠানই লোকসানে চলছে। কমিটির সভাপতি জানান, আয় বাড়াতে প্রত্যেকটি চিনি কলকে ‘বাই প্রডাক্টের’ উৎপাদনে নজর দিতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj