ছাতকে নৌপথে চাঁদাবাজির জের : আ.লীগের দুগ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১, আহত অর্ধশত

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

অসিত কুমার দাস, ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে : ছাতকে নৌপথে চাঁদাবাজির ঘটনার জের ধরে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাব উদ্দিন (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি পৌরসভা বাগবাড়ী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সোবহানের ছেলে। সংঘর্ষ চলাকালে গোলাগুলিতে থানার ওসি, ৬ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষে আহত ছাতক থানার ওসি মোস্তাফা কামালসহ গুলিবিদ্ধ অন্তত ২০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শহরে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৬৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৫২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টা থেকে পুলিশ এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাগবাড়ী আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ২৮ জনকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বুধবার সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠায়। শহরের পরিস্থিতি থমথমে হওয়ায় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জানা যায়, ছাতকের সুরমা, চেলা ও পিয়ান নদীর বিভিন্ন স্থানের চলন্ত নৌযান থেকে নির্ধারিত বৈধ চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নামে-বেনামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় চলছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় পাথর-বালু ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী ও চাঁদা আদায়কারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে নৌপথে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই বিরোধের জের ধরেই গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গোলাগুলি। এ সময় ছাতক বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জালালিয়া মাদ্রাসা এলাকা পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে বন্ধ হয়ে যায় শহরের সব দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ হয়ে পড়ে ছাতক-সিলেট সড়কের যান চলাচল। সংঘর্ষের শুরুতেই একটি পেশাদার অস্ত্রধারী গ্রুপ বন্দুক নিয়ে পৌরসভা মেয়র-কাউন্সিলরদের পক্ষের বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ছাতক থানার ওসির নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ব্যাপক লাঠিপেটার পাশাপাশি পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ওসি মোস্তফা কামাল, উপপরিদর্শক সৈয়দ আব্দুল মান্নানসহ ৫ পুলিশ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ওসিহ দুই কর্মকর্তার পায়ে গুলি বের করতে অপারেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সংঘর্ষে পুলিশ ছাড়াও গুলিবিদ্ধ অন্য আহত ফরহাদ চৌধুরী, আবুল খয়ের টুটুল, সোহাগ দাস, শিবলু মিয়া, সমরুল হোসেন সাজুসহ ২০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সুনামগঞ্জ থেকে দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে রাত ১০টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষ চলাকালে বুকে গুলিবিদ্ধ ভ্যানচালক শাহাব উদ্দিনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষের পর শহর এলাকার পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পুরো শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj