ব্লু ইকোনমি খাতে বাজেট বরাদ্দ রাখার তাগিদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনমি জোন গড়ে তোলা হয়। প্রত্যক্ষভাবে চারটিসহ মোট ১৭টি মন্ত্রণালয়ের ব্লুু ইকোনমি নিয়ে কাজ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো কাজই হচ্ছে না। কারণ সরকার খুব আগ্রহের সঙ্গে ব্লু ইকোনমি জোন করলেও তা পরিচালনার জন্য বাজেটে কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখেনি। ফলে এসব জোনের কার্যক্রমও অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ার মতো অবস্থা। এমতাবস্থায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পেট্রোবাংলা ভবনে গ্রিনটেক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত ‘প্রি-বাজেট ডিসকাশন অন ব্লু ইকোনমি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সংশ্লিষ্টরা এসব কথা বলেন। গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইবিএর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল মজিদের পরিচালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও গবেষক ড. আতিক রহমান। সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব ড. গোলাম শফিউদ্দিন এনডিসি, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জোবায়ের আলম, উত্তরা ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. দিলরুবা চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খোরশেদ আলম, গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের সিইও লুৎফুর রহমান, সাংবাদিক গাজী আনোয়ার প্রমুখ।

ড. আতিক রহমান বলেন, আমাদের দেশের সমুদ্র অর্থনৈতিক এরিয়া অনেক বেশি। কিন্তু আমরা সমুদ্রের সম্পদ কীভাবে আহরণ করব, তার জন্য সঠিক গবেষণা দরকার। সরকার চারটি মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করেছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। মন্ত্রণালগুলোর উচিৎ ব্লু ইকোনমি বিষয়ে এবং সমুদ্রসম্পদ নির্ণয়ে গবেষণাধর্মী প্রকল্প হাতে নেয়া। এতে আমরা সমুদ্র থেকে কী পরিমাণ মৎস্য আহরণ করব তার সঠিক পরিমাপ করা যাবে। আবার গভীর সমুদ্র থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণেও একটা সমীক্ষা চালানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল গঠন করে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। আর এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে। সমুদ্র সম্পদ আহরণের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

আর এ বিনিয়োগ প্রথম সরকারের পক্ষ থেকেই করতে হবে। ব্লু ইকোনমির সুফল পেতে বাজেটে বরাদ্দ জরুরি। এ খাতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় বিশাল অঙ্কের সামুদ্রিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ।

তিনি আরো বলেন, আমাদের জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। সে তুলনায় গ্রোথ বাড়ছে না বরং কমে যাচ্ছে। গ্রোথ বাড়াতে হলে আমাদের নিজস্ব সম্পদ আহরণের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামুদ্রিক সম্পদই হতে পারে আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

ড. গোলাম শফি উদ্দিন বলেন, ব্লু ইকোনমির বিষয়ে আমরা ইউনিক আইডিয়া নিয়ে এগুচ্ছি। প্রত্যক্ষভাবে চারটি মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনমি জোন গঠন করা হলেও পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে ১৭টি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সরকার মনে করেছে সেল হওয়া দরকার তাই হয়েছে। কিন্তু সেলগুলো টাকার অভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ভালো উদ্যোগও অর্থের অভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

ব্লু ইকোনমির কাজ এগিয়ে নিতে কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়গুলোকে একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগাতে হলে আলাদাভাবে বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। খোরশেদ আলম বলেন, ব্লু ইকোনমি আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এ বিষয়ে চারটি মন্ত্রণালয়ে সেল গঠন করা হলেও তা আজ পর্যন্ত কোনো প্রকল্প তৈরি করতে পারেনি। এটা আমাদের জন্য বড় ব্যর্থতা। প্রকল্প হাতে না নিলে অর্থ বরাদ্দ আসবে কীভাবে? তিনি বলেন, শুধু অর্থ বরাদ্দের কথা বললে হবে না, মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রজেক্ট দাঁড় করাতে হবে। কাজের জায়গায় যেতে হবে। তাহলে অর্থের বরাদ্দ চলে আসবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj