শ্বশুরবাড়ির দেয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

পাবনা প্রতিনিধি : শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দেয়া আগুনে দগ্ধ হওয়ার ৫ দিন পর মারা গেলেন পাবনার আমিনপুর থানার তালিমনগর গ্রামের গৃহবধূ ফজিয়া খাতুন। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত ফজিয়া খাতুন তালিমনগর গ্রামের ছুরমান মণ্ডলের স্ত্রী।

গতকাল বুধবার আমিনপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মঈনুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছুরমান মণ্ডল কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়া থাকেন। সেখান থেকে তিনি প্রতি মাসে তার বোন সামেলা খাতুনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। ননদ সামেলা খাতুন প্রতি মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকা করে দেন তার ভাবী ফজিয়া খাতুনকে। কিন্তু অল্প টাকায় সংসার চালানো সম্ভব না হওয়ায় শাশুড়ি-ননদ, ভাশুর ও জায়ের সঙ্গে কলহ দেখা দেয় প্রবাসী স্বামীর স্ত্রী ফজিয়া খাতুনের। এ নিয়োগ ৯ মে ভোরে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শাশুড়ি, ননদ ও ভাশুরের বউ মিলে ফজিয়া খাতুনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মারা যান গৃহবধূ ফজিয়া খাতুন। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর বাবা ফজিবুর রহমান বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ননদ সামেলা খাতুনকে গ্রেপ্তার করলেও অন্য আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, আগুনে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যুর কারণে মামলাটিতে একটি ধারা যুক্ত হয়ে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj