কৃষক ও ক্রেতাদের ভোগান্তি দূর হবে কখন?

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

সম্প্রতি শ্রীপুরের মাওনা হাটে সন্ধ্যার পর বাজার করতে গিয়ে দেখি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পরও বহু সবজি অবিক্রীত রয়ে গেছে। দাম অনেক কম। বেগুন কিনলাম ২০ টাকা কেজি দরে, কাঁচামরিচ আধা কেজি ১৫ টাকা, পুঁইশাক এক কেজি ১৫ টাকা, লেবু এক হালি ১০ টাকা, টমেটো এক কেজি সর্বনি¤œ ১০ টাকা পর্যন্ত, ঢেঁড়স কেজি ২০ টাকা, কচুর লতি কেজি ৩০ টাকা!

ঠিক কিছুক্ষণ পরই মাওনা চৌরাস্তা কাঁচা বাজারে যাওয়ার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এখানে ক্রেতাদের খুব বেশি হাহাকার। ঢেঁড়স ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লেবু এক হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ কেজি ৬০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা!

হাট এবং বাজারের সবজির দামে এত পার্থক্য হওয়ার কারণ বিবেচনায় আনা যাবে না কোনোভাবেই! কারো সঙ্গে কথা বলেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়! একজন বাজারের কাঁচা সবজির ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করলাম। তিনি বললেন, আমরা কিনিই বেশি দামে কম বেচব কী করে?

মাওনা হাটের একজন পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল তিনি কিনতে পারছেন অনেক সময় কম দামে কিন্তু নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রি করার কোনো উপায় নেই। সব কিছুর দাম বেঁধে দেয়া। পাইকারি বাজারগুলোতে অনেক সময় এক খাচি বা এক ব্যাগ হিসাবেও সবজি বা তরকারি বিক্রি করা হয়। সেখানেও বড় ধরনের দামে ওঠানামা লক্ষ করা যায়। কিন্তু কৃষক যাদের কাছে বিক্রি করছে তারা যদি সরাসরি ক্রেতার কাছেও বিক্রি করে তবে একসময় নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে বেশি হয়ে যায় তাদের ফসল। তখন অনেক কম দামে বিক্রি করতে হয় তাদের। ওই দিনও যেটা লক্ষ করা গেল মাওনা হাটে। অপরদিকে ক্রেতারা যদি হাট ও বাজারের মাঝামাঝি দামেও কিনতে পারত তবে তাদেরও জীবন বাঁচত।

কৃষক ও ক্রেতা দুইয়ের দূরুত্ব অনেক আমাদের দেশে। কৃষক যার কাছে ১০ টাকায় একটি কুমড়া বিক্রি করছে সেটা শহরে বা বাজারে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মধ্যে ৪০ টাকার এ ব্যবধান কেউ জানে না। এখানে পরিবহনে দুর্নীতির বিষয়টিও আসে। কিন্তু একটা ব্যাপার লক্ষণীয় তা হলো গাজীপুরে উৎপাদিত সবজি গাজীপুরে বিক্রি হলেও তাতে কেন ২০ থেকে ৪০ টাকার ব্যবধান হবে।

বাজার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ টিমের উচিত গাজীপুরসহ সব জায়গায় গ্রাম থেকে আসা কোনো সবজি কত দামে মধ্যস্বত্বভোগীরা কিনছে ও কত দামে তা ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করছে এবং ক্রেতার হাতে কত দামে তা পৌঁছাচ্ছে তা ঘেঁটে দেখা।

তাহলে কৃষকরা যেমনি দাম ভালো পেতে পারে তেমনি ক্রেতারাও থাকবে স্বস্তিতে। শুধু গাজীপুর নয়, প্রত্যেকটি অঞ্চলেই বিপণনের বিষয়টি বিবেচনায় এনে এ পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

সাঈদ চৌধুরী

:: শ্রীপুর, গাজীপুর।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj