ঈদে ট্রেন যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হবে

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

আবু আফজাল সালেহ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশ আলোচিত হলেও তা বন্ধ না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ কাজ করছে মূলত রাতে নেশাগ্রস্ত কেউ আর দিনে শিশু-কিশোররা। শিশু-কিশোররা মূলত খেলার ছলেই এ নির্মম কাজে অংশ নিচ্ছে। রেললাইনের দুপাশে কিছু অংশে যে ২৪ ঘণ্টা ১৪৪ ধারা জারি থাকে, তা সবাইকে জানাতে পদক্ষেপ পনিতে হবে। এ ছাড়া চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ফলে অপরাধীকে কী শাস্তি ভোগ করতে হবে, তাও জনগণকে বিস্তারিত জানাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। অভিভাবক, শিক্ষকসহ এলাকার গণ্যমান্য সবাইকে এ কাজে ভূমিকা রাখতে হবে। শিশু-কিশোরদের জানাতে হবে তাদের কৃত অপকর্মের কারণে মুহূর্তের মধ্যে একজন ব্যক্তি চিরদিনের জন্য অন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা আরো বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। ট্রেনে ইট-পাথর নিক্ষেপ রোধে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে মানুষকে হত্যা ও আহত করার বিষয়টি আমানবিক। বছরের পর বছর থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কারণ প্রতিটা রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশে অপরাধীরা ওঁৎ পেতে থাকে। স্টেশন থেকেই নানা অপরাধের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া নিরাপদ সড়ক ভেবে রেলপথকে অনেক অপরাধী নির্বিঘ্নে ব্যবহার করছে। এদের মধ্যে রেলওয়ের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত রয়েছেন বলে শোনা যায়। ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য নিরাপদে ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ঢিল ছোড়া দুষ্কৃতকারীদের এমন দৌরাত্ম্যের পরও রেলওয়ের পক্ষ থেকে এই অপরাধ বন্ধে জোরালো কোনো উদ্যোগ নেই। একের পর এক দুর্বৃত্তদের ছোড়া ঢিলের আঘাতে ট্রেনের যাত্রী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আহত হওয়ার পরও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলা পর্যন্ত হয় না। কিছু ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশ সাধারণ ডায়েরি করেই দায়িত্ব শেষ করে। বিশেষজ্ঞরা এই অপরাধ বন্ধে জরিমানাসহ অন্যান্য শাস্তি বাড়িয়ে বিদ্যমান আইন সংশোধনের সুপারিশ করছেন।

বেশ কিছু কারণে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। অনেক সময় ভবঘুরে ও রেললাইনের আশপাশে মাদকাসক্তরা ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারে। স্টপেজ ছাড়া গাড়ি থামানোর জন্যও দুর্বৃত্তরা এ কাজ করে থাকে। এর বাইরে সরকারি মালামাল নষ্ট করার মনমানসিকতা ও মাদক বা চোরাচালান পণ্য কিছু চিহ্নিত স্থানে নামাতে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটতে পারে। রেলে পাথর নিক্ষেপে শিশু-কিশোররা জড়িত বলে জানা যায়। বস্তি এলাকায় এ ঘটনা বেশি ঘটছে। কারণ বস্তি এলাকায় রেললাইন ঘেঁষে বসতঘর। ঘটনাপ্রবণ এলাকা শনাক্ত করতে হবে। প্রচারণা করতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যেসব স্থান দিয়ে ট্রেন চলাচল করে, সেখানকার জনপ্রতিনিধি এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন রেল কর্মকর্তারা। ঈদের আগে-পরে নির্বিঘ্ন হোক পথযাত্রা। কারণ এ সময়ে নানা রকম সংকট বেশি সৃষ্টি হয় এই সেক্টরে। রেলের অ্যাপস ঠিকমতো কাজ করুক। কাজ না করার পেছনে সিন্ডিকেটের ভয় না আসুক। পাথর ছোড়া শূন্যে নামুক। আমাদের বিবেক জাগ্রত হোক। সব জায়গার দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে।

:: দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj