চট্টগ্রামে দারুণ জনপ্রিয় ‘ফইর হবিরর সেমই’

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম অফিস : ১৯৩৬ থেকে ২০১৯। দীর্ঘ ৮৩ বছর পেরিয়েও চট্টগ্রামের চকবাজারের ‘ফইর হবিরর সেমই’ (ফকির কবিরের সেমাই) এখনো দারুণ জনপ্রিয়। বেকারি পণ্য তৈরি করলেও সেমাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে বিশেষ সুনাম। ভেজালের এই যুগে তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারেও কোনো ধরনের কেমিক্যাল ছাড়াই সেমাই তৈরি করে মেসার্স ফকির কবির। তাছাড়া স্বাদেও রয়েছে ভিন্নতা। তাই দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এখনো ছুটে আসেন এ সেমাই সংগ্রহে।

প্রতিষ্ঠানের বর্তমান স্বত্বাধিকারী আবু আহম্মেদ জানান জানান, তার বাবা প্রয়াত কবির আহম্মেদ ১৯৩৬ সালে ভাড়া দোকানে প্রথম এই ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে দোকানের জায়গাটি কিনে নেন তিনি। কবির আহম্মেদ সুফী ঘরানার মানুষ ছিলেন। তার আমলেই এই

সেমাইয়ের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতি বছর শবেবরাতের পর রমজানের শুরুতে এই সেমাইয়ের চাহিদা বহু গুণ বেড়ে যায়। ইফতারির আইটেমে চট্টগ্রামের বনেদি পরিবারগুলোতে এই সেমাই বেশ জনপ্রিয়। আর চাঁদ রাতের কয়েকদিন আগে থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা এই সেমাই কিনেন। দামও খুব বেশি নয়, প্রতি কেজি মাত্র ১৯০। পাইকারিভাবে তারা এই সেমাই বিক্রি করেন না।

প্রস্তুত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ময়দাকে ভালোভাবে চালুনি দিয়ে পরিষ্কার করে ফুটন্ত গরম পানি দিয়ে খামি তৈরি করি। এরপর ঘানি ভাঙা মেশিনের মতো দেখতে একটি মেশিনে আড়াআড়িভাবে বাঁধা লম্বা একটা কাঠ বা বাঁশ ধরে দুইজন লোক গোলাকার হয়ে হেঁটে ঘুরাতে থাকলে বিশেষ একটি ডাইস থেকে ময়দার খামি চিকন সুতার আকৃতির সেমাই হয়ে বেরিয়ে আসে। আর তখনই এই সেমাই গোলাকৃতির পৃথক পৃথক ডালায় নেয় অন্য কারিগররা। পরে সেমাইসহ এই ডালাগুলো রোদে শুকানো হয়। এরপর তন্দুরিতে দিয়ে লালচে রং হয়ে এলে এগুলোকে বিক্রির জন্য টুকরিতে সাজিয়ে রাখা হয়। এই সেমাইতে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না।

গতকাল বুধবার বিকেলে ওই দোকানে সেমাই কিনতে আসা লোকজনের বেশ ভিড় দেখা যায়। বাকলিয়া ডি সি রোড এলাকার আবুল বাশার বলেন, প্রতি বছর রোজা ও ঈদে অতিথিদের আপ্যায়নে জন্য এই সেমাই কিনি। এটার সঙ্গে বাজারের অন্য সেমাইয়ের তুলনা হয় না। নগরীর অভিজাত ও বনেদি পরিবার এবং প্রবীণদের কাছে ফকির কবিরের এই সেমাই খুবই জনপ্রিয়।

নগরীর উত্তর কাট্টলি থেকে আসা ক্রেতা সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, গত বছর একজনের মাধ্যমে কিনে নিয়েছিলাম এই সেমাই। খেয়ে ভালো লাগায় এবার নিজেই কিনতে এসেছি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj