আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা : ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে সরকারি কর্মসূচি নির্ধারণে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গতকাল আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

সভায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাব-গাম্ভীর্য এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন এবং তা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিক‚ল বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে এ জামাত অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করবেন। এ উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুসলিম দেশের ক‚টনীতিকদের আমন্ত্রণ জানাবেন। সরকারি, আধা-সরকারি ভবন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় পতাকা ও ‘ঈদ মোবারক’ লিখিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইট পোস্টে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া ঈদের দিন রাতে নির্দিষ্ট সরকারি ভবনসমূহ ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে আলোকসজ্জা করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সারাদেশে বিভাগ,জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রধানগণ জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি গ্রহণ করে ঈদ উদযাপন করবেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমসমূহ যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়াও ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেইফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, দুস্থ কল্যাণ ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথভাবে ঈদ উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ফিল্ম চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সকল শিশু পার্কে প্রবেশ এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। শিশুদের মধ্যে চকোলেট ও চিপস বিতরণের বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিছু আর্থিক অনুদান প্রদান করবে। ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে ঢাকা জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থানে প্রবেশ এবং তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

সভায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj