স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে : একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হোক

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় পছন্দসই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল বড় ভূমিকা পালন করলেও শিক্ষার্থীদের এক ধরনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। ইতোমধ্যে সারাদেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে এসএমএস ও অনলাইনে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। তিন ধাপে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ ও ফল প্রকাশ করা হবে। ফলাফলের ভিত্তিতে ২৭ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে ভর্তি কার্যক্রম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালায় সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি নির্ধারণও করে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ভর্তির কারণে শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও অর্থ ব্যয় কিছুটা হলেও কমবে আশা করা যায়। এবার ভর্তিকে নিষ্কলঙ্ক রাখার জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলো যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা খুবই ইতিবাচক। জানা যায়, ভর্তি নীতিমালায় প্রশাসনিক এলাকাভিত্তিক ভর্তি ফি সেশন চার্জসহ সর্বসাকুল্যে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। জারি করা ভর্তি নীতিমালায় মফস্বল ও পৌর (উপজেলা) এলাকায় সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। জেলা সদরের পৌর এলাকায় দুই হাজার টাকা, ঢাকার বাইরের সব মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটনে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা এবং আংশিক ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতনভাতা হিসেবে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এবারই প্রথম ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কলেজের তিনটি ক্যাটাগরি করে ভর্তি নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নীতিমালার বাইরে বেশি টাকা নেয়া হলে, সেসব প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কলেজে আসন সংকটের নানা খবরে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে পাস করা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মাঝে। ভালো মানের কলেজের সংখ্যা কম হওয়ায় মেধাবীরা কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে ঠিকই, কিন্তু আসন সংকটের কারণে কেউ সুযোগ বঞ্চিত হবে না। দেশে জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুব কম, সে কারণে গড়ে উঠছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা দোষের কিছু নয়, যদি সেগুলো সরকারি নিয়ম মেনে স্থাপিত ও পরিচালিত হয়। বাস্তবে দেখা যায়, বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শুধু ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীতিমালায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করবেন। বাড়তি ভর্তি ফির চাপে কেউ যেন ঝরে না পড়ে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj