জঙ্গিদের ‘লোন উলফ’ কৌশল, টার্গেট পুলিশ

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : জঙ্গিরা এবার টার্গেট করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও। অতীতের একাধিক হামলার ঘটনা পর্যালোচনা করে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবকটি ইউনিটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চেকপোস্ট বসিয়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা তল্লাশি। জঙ্গিরা হামলার ধরন বদলে টার্গেটে ‘একাকী’ (লোন উলফ) হামলার কৌশল আঁটায় তা উদ্বেগের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা দেশে পুলিশকে সতর্ক থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেছেন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে টার্গেট করেছে জঙ্গিরা। দেশজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সারা বিশে^ জঙ্গিরা এখন ‘লোন উলফ’ পদ্ধতিতে হামলা চালাচ্ছে। অর্থাৎ দলবদ্ধ হামলার চেয়ে একাকী হামলার প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রবণতা রোধ করা প্রায় অসম্ভব। জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়। জঙ্গি বা সন্দেহভাজনদের নিয়ে মানুষ তথ্য দিলে ‘একাকী হামলা’র প্রবণতাও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পুলিশ প্রধান জানান, বুদ্ধ পূর্ণিমায় কোনো সুনির্দিষ্ট হামলার তথ্য নেই। তবে হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বৌদ্ধপ্রধান এলাকাসহ সারা দেশেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা এবং পার্বত্য অঞ্চলে বুদ্ধ পূর্ণিমার শোভাযাত্রা হবে। এই শোভাযাত্রা ঘিরেও বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে। দেশে-বিদেশি জঙ্গি বা জঙ্গি সংগঠনের তৎরপতা নেই দাবি করে জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট-আইএসের কোনোা তৎপরতা বাংলাদেশে নেই। তবে কারো কারো সঙ্গে আদর্শিক যোগাযোগ থাকতে পারে।

এদিকে এআই?জি (মি?ডিয়া এন্ড পিআর) সোহেল রানা আইজিপির বরাত দিয়ে ব?লে?ছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো আশঙ্কা নেই। ত?বে সাম্প্রতিক সম?য়ে বি?শে^র বি?ভিন্ন দে?শে জঙ্গি হামলার পরিপ্রে?ক্ষি?তে বাংলা?দেশ সম্পূর্ণরূ?পে ঝুঁ?কিমুক্ত নয়। তাই, বাংলা?দেশ পুুলিশ বাড়?তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপা?শি সা?র্বিক নিরাপত্তা জোরদার ক?রে?ছে। বাড়ানো? হয়ে?ছে গো?য়েন্দা নজরদা?রি।

গত ২৯ এপ্রিল সোমবার রাতে ঢাকার গুলিস্তান ডন প্লাজার সামনে রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণে তিন পুলিশের আহত হয়। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দায় স্বীকার করলে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া তখন বলেন, গুলিস্তানের ককটেলটি অনেক শক্তিশালী ছিল। আইএস যে দাবি করেছে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

অন্যদিকে বুদ্ধ পূর্ণিমার সময় মন্দিরে জঙ্গি হামলা হতে পারে এমন হুমকি ও আশঙ্কায় সারা দেশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দারা এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকায় নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। অনুষ্ঠান উদযাপনে সতর্কতার অংশ হিসেবে দেয়া হয়েছে বেশ কিছু নির্দেশনা।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের রাস্তায় পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। একই বছরের ১৮ মার্চ খিলগাঁওয়ে র‌্যাবের চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর আগের দিন আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ঢাকার গাবতলীতে পুলিশ চেকপোস্টে জঙ্গিরা কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া চেকপোস্টে জঙ্গি হামলায় মুুকুল নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত এবং নূরে আলম নামে আরেক পুলিশ সদস্য আহত হন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj