করপোরেট করহার কমানোর দাবি ডিসিসিআইয়ের

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

ওবায়দুর রহমান : ব্যাংক ঋণের সুদহার, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যায় দেশের উদ্যোক্তারা ভালো নেই। এ অবস্থায় আগামী বাজেটে করপোরেট করহার কমানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে কোনোভাবেই ভ্যাট যাতে না বাড়ে সে বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির দাবি তাদের।

বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে ডিসিসিআই। এ নিয়ে ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের একটি নৈতিক চাপও আছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো বলছে- এনপিএলের কারণে সুদহার কমাতে পারছে না তারা। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোসহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ব্যাংক খাতের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ডিসিসিআই।

করপোরেট করহার কমানোর বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসির বলেন, বাংলাদেশে করপোরেট করহার অনেক বেশি। এখানে শেয়ারবাজারে তলিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার ভিয়েতনামের তুলনায় ১৫ শতাংশ, মালয়েশিয়ার তুলনায় ১১, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের তুলনায় ১০, পাকিস্তানের তুলনায় ৬ এবং ভারত ও ফিলিপাইনের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি।

অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিনিয়োগের খরচ বাড়ছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, জাতীয় অবকাঠামো পরিকল্পনা নির্ধারণ করে বেসরকারি খাতকে আরো বেশি সংযুক্ত করা প্রয়োজন। অবকাঠামো খাতে বর্তমানে ব্যয় হচ্ছে জিডিপির ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এ খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। বৃহৎ প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে ‘ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট এন্ড মনিটরিং অ্যাডভাইজরি অথরিটি (নিডমা)’ নামে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছে ডিসিসিআই।

ব্যবসা সহজীকরণসহ বিভিন্ন সূচকে নিচের দিকে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে ব্যবসায়ী নেতারা এসব সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এ সূচকে উন্নতি করতে হলে বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস দ্রুত চালু করতে হবে। একই সঙ্গে ছোট উদ্যোক্তাদের এ সেবা প্রদানে ঢাকা চেম্বারে একটি শাখা খোলা যেতে পারে।

ডিসিসিআই সহসভাপতি ইমরান আহমেদ বলেন, সমুদ্রভিত্তিক পরিবহন ব্যয় হ্রাসে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাকে শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী ঢেলে সাজানো এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী তরুণদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেয়া দরকার। তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা ভোগ করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো ও শিল্প খাতে নতুন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বেশি জোর দেন।

জানতে চাইলে ডিসিসিআইয়ের পরিচালক হোসেন এ সিকদার বলেন, আবাসন খাতে রেজিস্ট্রেশন খরচ বেশি থাকায় ক্রেতাদের কাছে রেডি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় তিনি রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানোর আহ্বান জানান। পরিচালক আশরাফ আহমেদ বিনিয়োগ ও জিডিপির আনুপাতিক হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj