সিলিন্ডার বিস্ফারণ : উড়ে গেল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জীবন বিমার জানালা

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ভয়াবহ সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মূল ভবনের জানালা উড়ে গেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশেই অবস্থিত জীবন বিমা করপোরেশনের দরজা জানালাও উড়ে যায়। বিস্ফোরণে চার জন আহত হয়েছে। আহত চার জনই ওয়ার্কশপ কর্মী।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষিণ পাশে জীবন বিমা করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলুন ফোলানোর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জীবন বিমা করপোরেশনের মাঝখানের গলিতে সরেজমিন দেখা যায়, কড়া পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের প্রধান দরজার সামনে তিনটি সিলিন্ডার এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে; পড়ে আছে পুরো এলাকাজুড়ে কাচের টুকরো। পাঁচ থেকে ছয় মিটার দূরে ভিন্ন ভিন্ন চার স্থানে রক্তে ভিজে আছে মাটি। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে প্রায় ২০ মিটার দূরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন থেকে ছয় তলা পর্যন্ত কাচের জানালা ভেঙে গেছে। এসব রুমে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুজন ডেপুটি গভর্নর ছয় জন নির্বাহী পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা বসেন। বিস্ফোরণ ঘটনার এক মিটারের মধ্যে জীবন বিমার এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসেন। এ ভবনের চার তলা পর্যন্ত জানালা দরজা ভেঙে গেছে। ভবনের ভেতরের কাচের আসবাবপত্রও ভেঙে গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তাকর্মী মোস্তফা কামাল জানান, তারা ভবনটির ভেতরে বসে ছিলেন। বিস্ফোরণের সময় কিছু বোঝার আগেই প্রচণ্ড শব্দে পুরো ভবন ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়, উপরে কাচের জানালা ভেঙে পড়ার শব্দ শোনা যায়। তিন তলা পর্যন্ত কাচের জানালাসহ কাচের আসবাবপত্র ভেঙে গেছে। চার জন ঘটনাস্থল থেকে দূরে ছিটকে পড়ে যায়। তাদের শরীরের কাপড় বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। পুরো শরীর রক্তে ভিজে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে কর্মকর্তারা। তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভবনের বাইরের একটি বিস্ফোরণে পাঁচ তলা পর্যন্ত জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আর্থিক খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এভাবে অরক্ষিত থাকা কোনোমতেই সমীচীন নয়।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমিও চিন্তিত। কিন্তু বাংলাদেশের মতো ঘনবসতি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইচ্ছা করলেই শতভাগ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এর মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। এ জন্য ব্যাংকের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj