মেডিকেল অফিসার নিয়োগ নিয়ে উত্তপ্ত বিএসএমএমইউ >> কোনো আপস নয় : উপাচার্য

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : মেডিকেল অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষার ফল বাতিল ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবারও উত্তপ্ত ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ক্যাম্পাস। উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এবং নিচতলায় ডা. মিলন হলের সামনে বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা জড়ো হয়ে পরীক্ষা বাতিল ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন ¯েøাগান দেন।

গতকাল স্মারকলিপি নিয়ে বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া এ সময় তার কার্যালয়ে ছিলেন না। বিশ^বিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় গতকালও পুলিশ মোতায়েন ছিল।

বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা জানান, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। আন্দোলনকারী বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকদের দাবি, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। ভিসি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ তাদের স্বজনদের নিয়োগ দিতে পরীক্ষার ফলে টেম্পারিং করা হয়েছে। এমনকি যাদের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার বয়স নেই, এমন চিকিৎসকরাও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বিক্ষুব্ধ চিকিৎসক ডা. রিয়াদ আরেফীন ভোরের কাগজকে বলেন, সাত দফা দাবি জানাতে সকালে আমরা স্মারকলিপি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মিটিংয়ে ছিলেন। এই পরীক্ষায় যে ৩২ বছরের বেশি বয়সীরা সুযোগ পেয়েছে এবং স্বজনপ্রীতি হয়েছে আমাদের কাছে এসব তথ্য আছে।

গতকাল দুপুরে বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকদের একটি দল বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছে কিছু তথ্য চেয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দেয়।

সেখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটিতে কারা ছিলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, বয়স ৩২ ঊর্ধ্ব প্রার্থীর তথ্য এবং কর্তাব্যক্তিদের আত্মীয় পরিচয়বাহী প্রার্থীর তালিকা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া ভোরের কাগজকে বলেন, হতাশাগ্রস্ত হয়ে তারা এসব করছে। তাদের দাবি অযৌক্তিক। মেধার ভিত্তিতেই ফল প্রকাশ হয়েছে। অনিয়মের কোনো প্রশ্নই আসে না। তারা যত যাই করুক, এ বিষয়ে কোনো আপস হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত ১৮০ জন মেডিকেল অফিসার এবং ২০ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ৮৫৫৭ জন চিকিৎসক অংশ নেন। ২০ মার্চ লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় এক পদের জন্য ৪ জনকে পাস করানো হয়। এ হিসেবে ৭১৯ জন মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন উত্তীর্ণ হন। চূড়ান্ত নিয়োগের ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj