মা-মেয়ে-ছেলের মৃত্যু : ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ময়নাতদন্তকারী দল, বিষের কৌটা, ঘুমের ওষুধ জব্দ

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তরখানের মৈনারটেকে মা-মেয়ে-ছেলের লাশ উদ্ধারের দুদিন অতিবাহিত হলেও তাদের মৃত্যু রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা এখনো রহস্যাবৃত। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এ ঘটনার তদন্ত চলছে, সহসাই ধোঁয়াশা কেটে যাবে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ৭ সদস্যের ময়নাতদন্তকারী দল। তারা ওই বাসায় তল্লাশি করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ‘তিন জনকেই হত্যা করা হয়েছে’ বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন ময়নাতদন্তকারী এই চিকিৎসক। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সেই বক্তব্য থেকে সরে এসে বলেছেন, সবকিছু পর্যালোচনা করে জানা যাবে ঘটনাটি ‘হত্যা না আত্মহত্যা’। ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ গতকাল বলেন, আজ (মঙ্গলবার) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমরা অনেক রকম আলামত পেয়েছি। যেমন- কোন লাশটি কোথায় পড়েছিল, ফ্ল্যাটের দরজার সিটকানি ভেতর থেকে আটকানো ছিল, দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চিহ্ন পেয়েছি। এ ছাড়া বাসা তল্লাশি করে টেবিলের ওপর একটি বিষের কৌটা পেয়েছি, বিছানায় বমি পাওয়া গেছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য সিআইডিকে দেয়া হয়েছে, কেমিক্যাল অ্যানালাইসিস করে এতে কোনো বিষ আছে কিনা? তা জানার জন্য। এ ছাড়া এক পাতা ঘুমের ওষুধ পেয়েছি, যেখানে ১০টি ঘুমের ওষুধের মধ্যে ৮টি নেই। সবকিছু পর্যলোচনা করে আমরা জানতে পারব আসলে ঘটনাটি কী ঘটেছিল।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সোহেল মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা সেটা জানার জন্য সব পরীক্ষার রিপোর্ট আমাদের হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ঘটনাস্থলে পাওয়া ছুরির মাথায় থাকা রক্ত পরীক্ষার জন্য আমরা সিআইডিকে দিয়েছি। তারা ডিএনএ প্রফাইলিং করার পর জানা যাবে এটা ‘হত্যা না আত্মহত্যা’। ঘটনা তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনা তদন্তে এখনো পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের ময়নাতদন্তকারী টিম আজ (গতকাল মঙ্গলবার) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা ঘটনাস্থলে থাকা আলামত সংগ্রহ করেছেন। সেখানে তারা বিষের আলামত পেয়েছেন। এ ছাড়া মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারস্থলে বমির আলামত নিয়ে গেছেন। ওসি আরো বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ নিশ্চিত হয়েছেন যে, ঘরের ভেতর থেকে সিটকানি লাগানো ছিল। বাইরে থেকে সেখানে কেউ প্রবেশ করেনি। তিনি তার আগের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন।

ঘটনা তদন্ত করেছেন উত্তরখান থানার এসআই রহমত আলী। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, এ ঘটনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এটি ‘হত্যা না আত্মহত্যা’ তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। আমরা লাশের ভিসেরা ও ডিএনএ রিপোর্টের জন্য আবেদন করেছি। এগুলো পাওয়ার পর ওই তিন জনের মৃত্যুর রহস্য বেরিয়ে আসবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj