ছোট ভাইয়ের চোখ তুলে নিল বড় ভাই

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : টানাটানির সংসার। তাই কিছু রোজগারের আশায় চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে কাজে যোগ দেয় কিশোর মিলন। ডিশ লাইন সংযোগের কাজ চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে করলেও পারিশ্রমিক মেলে না। টাকার কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে ছোট ভাইয়ের চোখ তুলে ফেলে মামুন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গতকাল মঙ্গলবার সেই কথা জানায় ১৪ বছর বয়সী কিশোর মিলন হোসেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন মিলন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গড়াই রাজাবাড়ী বানিয়ারচালা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে সে। অভাবের সংসারে দুবোন এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট মিলন।

দৃষ্টিশক্তি হারানো মিলনের বড় বোন নাসরিন আক্তারের সঙ্গে গতকাল হাসপাতালে কথা হয়। তিনি বলেন, গত ১২ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেল ৫টার দিকে তার চাচাতো ভাই মামুন ও আল আমিন নামে এক প্রতিবেশী মিলনকে ডেকে নিয়ে যায়। আমাদের গ্রামের পাশে বানিজ মার্কেট ও ক্যাডেট কলেজ এলাকার নিউটেক্স কারখানার পাশে একটি বাসার ছাদে নিয়ে যায় তাকে। সেখানে দুজনে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে জোর করে মিলনের প্রথমে ডান চোখ তুলে ফেলে। এ সময় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পরে তার বাম চোখ তুলে ফেলে তারা।

দৃষ্টি হারানো মিলনের বাবা গিয়াস উদ্দিন বলেন, তার ভাই ও ভাইপোদের সঙ্গে তাদের তেমন কোনো বিরোধ নেই। পৈতৃক সম্পত্তি তারা আগেই ভাগ করে নিয়েছেন। সে সম্পত্তিতেই তারা ঘর উঠিয়ে থাকেন। তবুও মাঝেমধ্যে টুকটাক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের ঝগড়া হতো। ঝগড়ার একপর্যায়ে ভাইপো বলেছিল, তোর একদিন চোখ তুলে ফেলব, তাই আজ ঘটল।

চোখ হারানো মিলন অভিযোগ করে, ভাই মামুনের সঙ্গে ডিশের সংযোগ দেয়ার কাজ করতাম। কাজ করার টাকা চাইতাম কিন্তু সে দিত না। এই টাকার কথা আমি একজনকে জানালে সে মামুনকে বলে দেয়। এতেই মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ডান চোখ স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে তুলে ফেলে। এরপরে কী হয়েছে, আমি আর কিছুই বলতে পারি না। পরে হাসপাতালের বিছানায় জ্ঞান ফিরলে দুচোখ দিয়ে আর কিছুই দেখতে পারি না- বলে কেঁদে ওঠে।

ঢামেকের চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফরিদুল হাসান বলেন, প্রথমে মিলনের পরিবার জানিয়েছিল পড়ে গিয়ে সে আঘাত পেয়েছে।

কিন্তু পরে তারা জানায়, শত্রুপক্ষ তার চোখ তুলে নিয়েছে। তবে আঘাতে মিলনের একটি চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। আরেকটি চোখ ভালো থাকলেও তা দিয়ে দেখতে পারবে কিনা এখনি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। পরিবার থেকে অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj