বাংলা একাডেমিতে কবি হায়াৎ সাইফকে শেষ শ্রদ্ধা

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ষাটের দশকের খ্যাতিমান কবি ও অনুবাদক কবি হায়াৎ সাইফকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় সদ্যপ্রয়াত এ কবির মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে সেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং একাডেমির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে প্রয়াত কবির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন করে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় কবিতা পরিষদ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গুলশান আজাদ মসজিদে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এ ছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ড. শিরীন আখতার, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, কথাশিল্পী রশীদ হায়দার, কবি জাহিদুল হক, কবি কামাল চৌধুরী, কবি আসাদ মান্নান, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি সালেম সুলেরী, কবি হালিম আজাদ, কবি গৌরাঙ্গ মোহান্ত, কবি ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত, লেখক আমিনুল ইসলাম বেদু, কবি আমিনুর রহমান, সাবেক ক‚টনীতিক মহিউদ্দিন আহমেদ, ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক আতাউর রহমান, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, প্রকাশক নিশাত জাহান রানা প্রমুখ।

হায়াত সাইফ স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম কবিতা ১৯৬২ সালে ‘মাসিক সমকাল’ এ প্রকাশ পায়। ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাস করার পর তিনি পাকিস্তান রেডিওতে সংবাদ পাঠ ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। পরে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালে তিনি সরকারি চাকরি থকে অবসরে যান। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটের ন্যাশনাল কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। ২০০৩ সালে বিশ্ব স্কাউট কমিটির একমাত্র ও বিশ্ব স্কাউট পরিমণ্ডলের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক ‘ব্রোঞ্জ উলফ’ প্রদান করা হয় তাকে। ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হয়েছেন তিনি।

কবির মূল নাম সাইফুল ইসলাম খান। হায়াৎ সাইফ তার লেখক নাম। তার প্রকাশিত কবিতার বই আটটি ও কয়েকটি গদ্য এবং অনূদিত বই রয়েছে। ১৯৯২ সালে তার লেখা সাহিত্যবিষয়ক সংকলন গ্রন্থ ‘উক্তি ও উপলব্ধি’ প্রকাশিত হয়। ২০০৪ সালে মাহবুব তালুকদারের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের সমসাময়িক গদ্য নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় কবিতা সংকলন ‘প্রধানত স্মৃতি এবং মানুষের পথচলা’।

১৯৯৮ সালে দিব্য প্রকাশ থেকে ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর সম্পাদনায় ‘ভয়েস অব হায়াৎ সাইফ’ নামে একটি ইংরেজি অনুবাদকৃত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটিতে ৪৫টি কবিতা রয়েছে। ২০০১ সালে পাঠক সমাবেশ থেকে ‘হায়াৎ সাইফ : সিলেক্টেড পয়েমস’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। আগামি ২০ মে সোমবার সকালে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে কবি হায়াৎ সাইফের প্রয়াণে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj