ইতিবাচক ধারায় দেশের অর্থনীতি

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের অর্থনীতি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। বিশেষত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর একেবারে পুরোভাগে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাস এবং জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে সত্যিকারের সম্ভাবনা অনুযায়ী কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নতি হয়নি।

ব্যবসায়ীদের প্রভাবশালী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) তাদের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় এসব এ কথা বলেছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ সময়ের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে এমসিসিআইয়ের এ পর্যালোচনা সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়। প্রতি তিন মাস পরপর এ ধরনের পর্যালোচনা করে সংগঠনটি।

এবারের পর্যালোচনায় এমসিসিআই বলেছে, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে দেশের কৃষি, উৎপাদনশীল ও সেবা খাত ভালো করেছে। এ ধারা ধরে রাখতে সরকারের সহায়তা দরকার।

এমসিসিআই বরাবরের মতো এবারো বলেছে বাংলাদেশ সত্যিকারের সম্ভাবনা অনুযায়ী এগুতে পারছে না।

অবকাঠামো ঘাটতি এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবারহ না থাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই কাক্সিক্ষত মাত্রায় উন্নয়ন হচ্ছে না।

কৃষি খাত নিয়ে পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অনুক‚ল আবহাওয়া ও সরকারের পর্যাপ্ত সহায়তার কারণে আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ কৃষিতে ভালো করেছে। বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কৃষিতে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এমসিসিআই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেছে, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে উৎপাদনশীল খাতে যথেষ্ট ভালো করেছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সেবা খাতের ৯টি উপখাতেই আলোচ্য সময়ে প্রবৃদ্ধি এসেছে।

দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি বলছে, সরকারের হিসেবে গত ৩১ মার্চে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৩ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং একেবারে ছিল না।

তবে সংগঠটির মতে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। যার ফলে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে সরকারকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরো

মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ সংগঠনটির।

জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে আরো জোরালো করার জন্য কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নিয়ে আসা এবং বৈদেশিক রিজার্ভ শক্তিশালীকরণের পরামর্শ দিয়েছে এমসিসিআই। তারা বলছে, এসব করা সম্ভব হলে ২০৩০ সাল বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন করা সহজ হবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj