পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে কাজে আসছে না কোনো উদ্যোগ

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ, বিনিয়োগের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) তহবিল প্রদান, প্লেসমেন্ট নৈরাজ্য বন্ধ, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির চাপ কমানোর পদক্ষেপ, দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ঠেকানোর উদ্যোগসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও গতি ফিরছে না দেশের পুঁজিবাজারে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। ২০১০ সালের মহাধসের সময়ও বাজার সংশ্লিষ্ট ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এমন তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিমত অনেকের। তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, শুধু উদ্যোগ নিলেই হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে, গতি ফিরে পাবে বাজার।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, তিন মাসের বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে দরপতন চললেও মে মাসের আগ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অনেকটা নিশ্চুপ ছিল। কিন্তু ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজার নিয়ে বক্তব্য দিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। বাজারে গতি ফেরাতে তৎপর হয়ে ওঠে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, পুঁজিবাজারে আমরা সব ধরনের সুযোগ দিচ্ছি। এখানে আগে অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমরা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছি। এ নিয়ে খুব বেশি শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে তৎপর হয়ে ওঠে বিএসইসি। বাজার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে বসে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসগুলো থেকে নেয়া হয় অভিমত। ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ছুটে যান বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেন। স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইপিও আবেদন গ্রহণ ও প্লেসমেন্ট বন্ধের ঘোষণা দেয় বিএসইসি। একই সঙ্গে আইপিও প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ারের লক ইন (বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা) সীমা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি আইপিও, প্লেসমেন্ট, আইপিও-পরবর্তী বোনাস শেয়ার এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত বিদ্যমান নোটিফিকেশনের সংশোধনী আনতে গঠন করা হয় দুটি কমিটি।

বিএসইসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে সরকার এক ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছে। যে কারণে বাজারের গতি ফেরাতে সরকার বেশ তৎপর। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে বাজারে গতি ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিএসইসিকে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে এতসব উদ্যোগের পরেও বাজারে গতি ফিরছে না। প্রতিদিনই লেনদেন কমছে। কমছে সূচক। সর্বশেষ গতকাল উভয় শেয়ারবাজারের সব সূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেনও। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টাকার পরিমাণে লেনদেন সাড়ে ১৩ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম হয়েছে। লেনদেন হয়েছে মাত্র ২৫১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

ডিএসইর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিএসইসি এখন যেসব উদ্যোগ নিচ্ছে, এগুলো আরো আগে নিলে পুঁজিবাজারের এমন অবস্থা হতো না। আমরা আশা করছি, সা¤প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজার নিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাজার কিছুদিন ভালো থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটও কেটে যাবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক ও সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাজার ভালো করার জন্য যখন হস্তক্ষেপ করেছেন, সে দিন থেকে যে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারি তাহলে বাজারের আস্থা ও অর্থ সংকট সব কেটে যাবে। সেই সঙ্গে বাজার একটি দৃঢ়ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশিদ চৌধুরী বলেন, বাজারের বড় সমস্য হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা। তাদের আস্থা ফিরলে বাজারে অবশ্যই গতি ফিরবে। স¤প্রতি যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা আমরা খুবই ইতিবাচকভাবে দেখছি। তবে শুধু মুখে বললে হবে না, কাজে প্রমাণ দিতে হবে। ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে শিগগিরই সে সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj