মানবতার কল্যাণে ঐশী বিধান কুরআন মজিদ

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

মানুষের সঙ্গে মহান স্রষ্টা আল্লাহর সংযোগ-সম্পর্ক নৈকট্য সুদৃঢ় হয় পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা এবং নানামুখী ইবাদত-বন্দেগির উসিলায়। ইবাদত-আরাধনার বহু উপায় আছে। এই উপায় এবং ইবাদত-বন্দেগি কীভাবে করা হবে তার সঠিক পদ্ধতি ও রূপরেখা পেশ করেছেন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (দ.)। আল্লাহপাক তো মানুষ সৃষ্টির একটি বড় কারণ হিসেবে স্বয়ং ঘোষণা দিয়ে রেখে গেছেন ‘ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনছা ইল্লা লিয়া’বুদুন’- ‘আমি মানুষ ও জিন জাতিকে আমার ইবাদতের জন্যই পাঠিয়েছি।’ মহান প্রভু আল্লাহর ইবাদত যথাযথ উপায়ে সঠিক নিয়মে করার বাস্তব নির্দেশনা রয়েছে মহানবীর (দ.) বাণী ও হাদিস শরিফে বেশ উজ্জ্বলভাবে। মহানবী (দ.) ইসলামের প্রবর্তক এবং ইসলামী জীবন দর্শনের মডেল ও রূপকার হিসেবে যা কিছু মানুষের জন্য করণীয় নির্ধারণ করেছেন, তা-ই আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যথেষ্ট।

কিছু ইবাদতের কথা কুরআন মজিদে আল্লাহপাক সরাসরি মানুষের উদ্দেশে বলেছেন। যেমন নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি অতি আবশ্যকীয় ইবাদত বা করণীয়গুলো কুরআন মজিদে সরাসরি নির্দেশিত আল্লাহর পক্ষ থেকে। এর বাইরেও বহু করণীয় আছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের অনেক পথ-পদ্ধতি রয়েছে। যা মানুষের সামনে নানাভাবে পেশ করেছেন মহানবী (দ.)। কুরআন মজিদের নির্দেশ এবং মহানবীর (দ.) প্রদর্শিত যাবতীয় কাজ ও করণীয় নিয়েই ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। মানুষকে হেদায়েতের পথে, সৎ কাজে ও কর্তব্যে দায়িত্বনিষ্ঠ হওয়ার জোরালো আহ্বান রয়েছে ঐশী গ্রন্থ কুরআন মজিদে। আল্লাহপাক বলেন, তিব ইয়ানাল্লিকুল্লি শাইয়্যিন- প্রত্যেক বস্তু, প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে কুরআন মজিদে। সুরা ইয়াসিনে আল্লাহপাক কুরআন মজিদকে অভিহিত করেছেন- ওয়াল কুরআনিল হাকিম- ‘বিজ্ঞানময় কুরআন’ হিসেবে। আজ শুধু মুসলিম মনীষীরা নন- অন্য ধর্মবিশ্বাসী জ্ঞানী-গুণী পণ্ডিত, বিজ্ঞানী ও বিদগ্ধজনের মধ্যে কুরআন মজিদের ব্যাপক পঠন-পাঠন-অধ্যয়ন-গবেষণা শুরু হয়েছে।

কুরআন মজিদকে বলা হয়েছে- ‘হুদাল্লিন্নাছ’ তথা মানব জাতির পথপ্রদর্শক। যদিও একটি সম্প্রদায় কুরআন মজিদকে ধর্মগ্রন্থ হিসেবে মানে, কিন্তু সব জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণে জীবনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে পারে। কুরআনের হেদায়তের বাণী সর্বজনীন ও উন্মুক্ত। ইসলাম একটি জীবনমুখী বাস্তববাদী জীবন ব্যবস্থা হিসেবে এর বিশ্বজনীন আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা এখন প্রশ্নাতীত। কুরআন মজিদ তেলাওয়াতে রয়েছে অশেষ সওয়াব বা পুণ্য। প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দেয়া হয় দশটি পুণ্য। প্রিয়নবী (দ.) বলেছেন, ‘তোমরা সব সময় কুরআন মজিদ পড়ো। কারণ যারা সর্বদা কুরআন শরিফ তেলাওয়াত করে কিয়ামতের মুসিবতের দিনে কুরআন শরিফ তার জন্য সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবে।’ কুরআন মজিদ পড়তে হবে ধীরে-সুস্থে, প্রতিটি শব্দ, বর্ণ, বাক্য স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হবে। কুরআন মজিদ পড়ার বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ- ওয়ারাত্তিলিল কুরআন তারতিলা অর্থাৎ ‘তোমরা যথাশুদ্ধভাবে কুরআন শরিফ পড়ো।’ [সুরা মুয্যাম্মিল] তাই সহি শুদ্ধভাবে এবং অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াতে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।

কুরআন মজিদের মনগড়া ব্যাখ্যা করে যারা অতীতে নৃশংসতা-অপকর্মে জড়িত ছিল তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করাই হচ্ছে কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা। সমাজে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টিতে অপরাধী অপরাধ করে নিষ্কৃতি না পাওয়াই কুরআনের হুকুম। খুন, সহিংসতায় যারা লিপ্ত তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পেতেই হবে। এটাই কুরআনের বিধান। ইনসাফভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরআন মজিদের অধ্যয়ন জোরদার করতে হবে।

লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ, সাংবাদিক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj