আলোচনায় লুকাস মুরা : আউটফিল্ড

মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০১৯

এক হ্যাটট্রিকের বদৌলতে রাতারাতি তারকা বনে পৌঁছে যান টটেনহ্যামের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুকাস মুরা। ১৯৯২ সালের ৩ আগস্ট ব্রাজিলের সাও পাওলোতে জন্ম নেওয়া এ ফুটবলারের পুরো নাম লুকাস রদ্রিগেজ মুরা দি সিলভা। তার বাবা ছিলেন একজন সিভিল সার্ভেন্ট এবং মা ছিলেন একজন হেয়ারড্রেসার। ছোট বেলা থেকেই ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি এবং মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই তার ফুটবল প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মারসেলিনহো কারিউকার একাডেমিতে তার ফুটবল খেলার হাতেখড়ি হয়। তার খেলার ধরন ব্রাজিলিয়ান মারসেলিনহোর সঙ্গে সাদৃশ্য ছিল তাই ক্লাবের সবাই তাকে মারসেলিনহো বলেই ডাকত। ৬ বছর বয়সে যোগ দেন ক্লাবে সান্তা মারিয়া নামে সাও পাওলোর একটি ক্লাবে। ১০ বছর বয়সে যোগ দেন কোরিনথিয়ানসে। কিন্তু কোরিনথিয়ানসের ট্রেনিং গ্রাউন্ড তার বাসা থেকে অনেক দূরে ছিল। ট্রেনিংয়ে যেতে হলে তাকে দুইবার বাস পাল্টিয়ে আবার ট্রেনে করে যাওয়া লাগত। এর ফলে কিছুদিন পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তার বাবা-মা কোরিনথিয়ানস ক্লাবের কাছে তাদের সন্তানের থাকার জায়গার দাবি করেন। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ থাকার জায়গা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে সেখানে যাওয়া তার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এতে হাল না ছেড়ে দিয়ে তারা যোগাযোগ করে স্থানীয় সাউ পাউলো ফুটবল ক্লাবে। মুরার খেলা দেখে তারা তাকে দলে নিয়ে নেয়। কিন্তু তাকে পাঠিয়ে দেয় কতিয়ায় অবস্থিত তাদের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে যেটির অবস্থান ছিল তার বাড়ি থেকে ২১ মাইল দূরে। এলাকাটি ছিল সন্ত্রাস, মাদকে ভরপুর। কিন্তু এসব কিছু তাকে ছুঁতে পারেনি। সেখানে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি। ১৭ বছর বয়সে সুযোগ পান তাদের মূল দলে। সেখানে খেলার সময় বিভিন্ন বড় বড় ক্লাবের চোখে পড়েন তিনি। এরপর মাত্র ২০ বছর বয়সে ২০১২ সালে ৩৮ মিলিয়ন ইউরোতে যোগ দেন ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইরে। ভালোই চলছিল তার দিনকাল প্যারিসের ক্লাবে, বেশকিছু গোলও করেন তিনি। জিতে নেন ৪টি লিগ-ওয়ান শিরোপা। তবে স্বদেশি ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার ও ফরাসি বিশ^কাপজয়ী তারকা এমবাপ্পে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইরে যোগ দিলে একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়ে যান তিনি। এরপর ধরতে গেলে অনেকটা বাধ্য হয়েই প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর ছেড়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র ২৫ মিলিয়ন ইউরোতে যোগ দেন টটেনহ্যামে। আর টটেনহ্যামে এসেই নিজের জাত চেনাতে শুরু করেন তিনি। অনেক ম্যাচ জেতায় অবদান রাখেন তিনি। আর সর্বশেষ আয়াক্সের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল ম্যাচে ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেললেন তিনি।

:: মো. তানভীরুল ইসলাম

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj