টটেনহ্যাম : ক্লাব পরিচিতি

মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০১৯

বর্তমান ফুটবল বিশে^ সুপরিচিত ক্লাবগুলোর মধ্যে টটেনহ্যাম অন্যতম। ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ ফুটবল লিগ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা টটেনহ্যামের জন্ম ১৮৮২ সালে। টটেনহ্যামের জন্মটা কিন্তু হয়েছিল কিছু সংখ্যক অখ্যাত স্কুল বালকদের হাত ধরে। শুনতে অবিশ^াস্য হলেও এটাই সত্যি। কয়েকজন স্কুল বালকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল টটেনহ্যাম। এ স্কুল বালকদের মধ্যে ববি বাকল ছিলেন অন্যতম। মূলত তার নেতৃত্বেই আত্মপ্রকাশ ঘটে ক্লাবটির। তারা ছিল টটেনহ্যাম ক্রিকেট ক্লাবের সদস্য। কিন্তু শীতকালে ক্রিকেট খেলাটা সহজতর ছিল না তাই তারা পরিকল্পনা করে শীতের মৌসুমটায় ফুটবল খেলে কাটানোর আর সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয় টটেনহ্যাম। অল হ্যালোস নামক এক চার্চের বাইবেল শিক্ষক ছিলেন জন রিপশ্চার। তার কাছে সাহায্য চায় ছেলেরা এবং তাদের অনুরোধে ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম ম্যানেজার হন রিপশ্চার। ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর ছেলেরা নিজেদের মধ্যে ও আরো অন্যন্য লোকাল ক্লাবগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ম্যাচে অংশগ্রহণ করে। রেডিক্যালস নামক এক লোকাল ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে ১৮৮২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ খেলে টটেনহ্যাম। কিন্তু ২-০ গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি হেরে যায় তারা। ১৮৮৫ সালে লন্ডন অ্যাসোসিয়েশন কাপ নামক এক লিগে খেলার মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে প্রবেশ করে ক্লাবটি এবং প্রথম ম্যাচেই তারা সেন্ট আলবাস নামক দলকে ৫-২ গোলে হারিয়ে তাদের পথচলা শুরু করে। ধীরে ধীরে স্থানীয় মানুষদের কাছে পরিচিতি বেড়ে যায় ক্লাবটির। খেলা দেখতে মাঠে ভিড় জমানো শুরু করে তারা। স্কুল বালকদের হাতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া টটেনহ্যাম সময়ের পরিক্রমায় পেশাদার ফুটবলার ও ম্যানেজারের সমন্বয়ে পুরোপুরি এক পেশাদার দলে পরিণত হয়। শুরু থেকেই সাদা জার্সি ও নেভি ব্লু হাফ প্যান্ট পরে খেলত টটেনহ্যাম। এখন পর্যন্ত এই জার্সিই ধরে রেখেছে তারা। ঘরের মাঠে সাদা জার্সি ও নেভি ব্লু হাফ পেন্ট আর বাইরের মাঠে খেলতে গেলে নেভি ব্লু জার্সি ও নেভি ব্লু হাফ প্যান্ট পরে খেলতে নামে তারা।

টটেনহ্যাম ফুটবল ক্লাব লন্ডনে অবস্থিত হোয়াইট হার্ট লেন নামক ৩৭ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার এক স্টেডিয়ামকে ১৮৯৯ সাল থেকে তাদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে এবং ১৮৯৯-২০১৭ পর্যন্ত ২৫৩৩টি ম্যাচ আয়োজন করে। সমর্থকদের কাছে দ্য লেন নামে পরিচিত স্টেডিয়ামটিতে ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচ খেলে এবং ম্যাচটিতে ২-১ গোলে জয় পায়। এরপর পুনর্নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালের শেষের দিকে স্টেডিয়ামটি ভেঙে ফেলা হয়।

:: খেলা ডেস্ক

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj