অন্তর্মুখী ব্যক্তিদের কয়েকটি শক্তি

রবিবার, ১২ মে ২০১৯

সাধারণ দৃষ্টিতে অন্তর্মুখী ব্যক্তির কথা বলার প্রবণতা কম, তারা মিশুক প্রকৃতির নয়, তারা শান্ত স্বভাবের হয়, তারা সমাজে তেমন একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে না এবং তাদের পার্টি পরিবেশ এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেশি। সমাজ অন্তর্মুখীদের নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু আপনি কি অন্তর্মুখীদের গোপন শক্তি সম্পর্কে জানেন? হ্যাঁ, তাদের কিছু গোপন শক্তি রয়েছে এবং এসব শক্তির কারণে তারা অনেকক্ষেত্রে বহির্মুখী লোকদের চেয়ে এগিয়ে থাকে। অন্তর্মুখী ব্যক্তিদের গোপন শক্তি সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হলো।

অন্তর্মুখী ব্যক্তিরা সমস্যার সমাধান করে : আপনি কি রিলেশনশিপ বিষয়ক পরামর্শ খুঁজছেন? অথবা আপনি কি কোনো গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে চাচ্ছেন? কিংবা আপনি কি রসায়নের কোনো জট খুলতে চাচ্ছেন? অথবা আপনি কি হিসাবের কোনো অসংগতি দূর করতে চাচ্ছেন? তাহলে এসব ব্যাপারে সাহায্য করতে অন্তর্মুখীরা বহির্মুখীদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। আপনার কোনো সমস্যার উত্তর অন্তর্মুখীদের কাছে পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। ইন্ট্রোভার্ট পাওয়ার নামক বইয়ের লেখক লরি হেলগো বলেন, ‘যদি আপনি কোনো অন্তর্মুখী লোকের মস্তিষ্কের ভেতরে তাকান, তাহলে দেখবেন যে ফ্রন্টাল কর্টেক্সে প্রচুর কার্যক্রম সম্পাদিত হচ্ছে। ফ্রন্টাল কর্টেক্স হলো জটিল মানসিক কার্যক্রমের জন্য কমান্ড সেন্টার যা তথ্য গ্রহণ করা, গৃহীত তথ্য ও সংরক্ষিত তথ্যকে সিদ্ধান্তে পৌঁছার জন্য প্রক্রিয়া করা এবং সমাধান বের করার সঙ্গে জড়িত।’

অন্তর্মুখীরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে : অন্তর্মুখীদের পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার প্রবণতা বেশি, বিশেষ করে কর্মস্থলের ক্ষেত্রে। এর কারণ হতে পারে চিন্তা করা বা সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘসূত্রতা। অন্তর্মুখী লোকেরা দ্রুত চিন্তা করতে পারে না বলে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি হয়, কিন্তু বহির্মুখীরা এর বিপরীত। এর পেছনে ¯øায়ুতাত্তি¡ক কারণ রয়েছে : অন্তর্মুখীদের মস্তিষ্কে তথ্য দীর্ঘপথ অতিক্রম করে, যেখানে বহির্মুখীদের মস্তিষ্কে তথ্য অল্প দূরত্ব অতিক্রম করে। অনাকাক্সিক্ষত প্রশ্ন এড়াতে অন্তর্মুখীরা যথাসম্ভব ভালো প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। কোয়াইয়েট ইনফ্লুয়েন্সের লেখক জেনিফার কাহনওয়েইলার বলেন, ‘ভালোভাবে প্রস্তুত থাকা আত্মবিশ্বাসেরও যোগানদাতা।’ সাধারণত জনসম্মুখে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে অন্তর্মুখীদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকে।

অন্তর্মুখীরা প্রায়ক্ষেত্রে ভালো লেখক হয় : আই, রোবট এবং অন্য সায়েন্স ফিকশনের লেখক আইজ্যাক আজিমভ বলেন, ‘আমার কাছে লেখালেখি হলো আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে চিন্তা করা।’ এ কথার মানে হলো অন্তর্মুখীরা লেখালেখির জন্য গভীর মনোযোগ সহকারে চিন্তা করে। লেখালেখিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এমন অনেক অন্তর্মুখী লোক এ কথার সঙ্গে সহমত পোষণ করবে। লেখক কাহনওয়েইলার বলেন, ‘অন্তর্মুখীরা কোনো বিষয়ে লিখতে গেলে সে সম্পর্কে যতটা সম্ভব জ্ঞানার্জন করেন এবং গভীর ভাবনায় ডুবে বিষয়টাকে বিস্তর করার চেষ্টা করেন। তারা তাদের ধারণাকে বিস্তারিত লিখতে পারেন এবং ধারণাকে সীমিত রাখার পরিবর্তে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়ে থাকেন।’

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj