রোজায় রয়েছে নিরোগ জীবনের নিশ্চয়তা

রবিবার, ১২ মে ২০১৯

মানবজীবনের আত্মিক, সামাজিক ও দৈহিক উপকারে সিয়াম সাধনা বা রোজার অবদান অপরিসীম। রোজা শুধু ধর্মীয় ফরজ ইবাদতই নয়, দৈহিক সুস্থতা লাভে রোজার ভূমিকা চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে রোজার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সবার জানা থাকা জরুরি। ইসলাম বিশ্বের মানুষ ও জ্ঞানীদের প্রাকৃতিক জগৎ, সৃষ্টি শৃঙ্খলা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করার আহ্বান জানিয়েছে। কুরআন মজিদের বাণী হলো- ‘এবং তারা চিন্তা ও গবেষণা করে আসমান ও জমিনে সৃষ্টির বিষয়ে’ (সুরা আলে ইমরান : ১৯২)। ইসলাম বিজ্ঞানময়। বিজ্ঞানের সমর্থক ও পরিপোষক ইসলামের সব বিধিবিধান।

সিয়াম ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। ইসলামের পঞ্চখুঁটির একটি হলো রমজান অথচ মুসলিম সমাজের এক শ্রেণির শিক্ষিত লোকের মাঝে রোজার প্রতি অনীহা এবং এর গুরুত্ব অস্বীকৃত হয়ে আসছে। এ ছাড়া কিছুকাল আগেও অনেক চিকিৎসাবিদও হাইপার এসিডিটি, পেপটিক আলসারের রোগীকে রোজা রাখতে নিষেধ করতেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই ভ্রান্তি এখন কেটে গেছে। বরং সুস্থ থাকার জন্য রোজার আবশ্যকতা এখন বেশি শোনা যায় চিকিৎসকদের কণ্ঠে। অবশ্য বেশি শারীরিক সমস্যা ও ঝুঁকি থাকলে রোজা না রাখার অবকাশ তো ইসলাম দিয়েছে। সমস্ত শরীরে সারা বছর যে জৈব বিষ জমা হয় এক মাসের রোজা রাখার ফলে সেই জৈব বিষ শরীর থেকে দূরীভূত হয় খুব সহজেই। শরীরের রক্ত প্রবাহকে রোজা পরিশোধন করে এবং সমগ্র প্রবাহ প্রণালিকে নবরূপ দান করে। রোজা ঊর্ধ্ব রক্তচাপ তথা হাইপ্রেসার ও অন্যান্য মারাত্মক ব্যাধিসমূহ কমাতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে পারে না বলে প্রায়ই উচ্চারিত হয়। দীর্ঘ সময় উপবাসের ফলে রক্তে গøুকোজ অতিরিক্ত কমে যায়। আসলে এটি আতঙ্ক ছাড়া অন্য কিছুই নয়। ধরা যাক, রোজা ছাড়া একজন ডায়াবেটিস রোগী রাতে ৯/১০টায় আহার করেন এবং ওষুধ খান। সকাল ৭/৮টায় আবার খাবার খান এবং ওষুধ খান। মাঝখানে প্রায় ১০ ঘণ্টার মতো বিরতি থাকে। রোজার দিনে রাত দিন হয়ে যায় এবং দিন রাত হয়ে যায়। এটা যদি স্বাভাবিক হয়ে যায় তবে রোজার দিনে ১৪/১৬ ঘণ্টা উপবাস করতে হলেও হাইপোগøাসেমিয়া হওয়ার কথা নয় এবং হাইপোগøাসেমিয়া (রক্তের গøুকোজের স্বল্পতা) না হলে রোজা নিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর ভয় নেই। এই হাইপোগøাসেমিয়া কারণগুলোর মধ্যে রোজার ভূমিকা খুঁজে দেখা দরকার। হাইপোগøাসেমিয়া কারণসমূহ হচ্ছে- ভুলে যাওয়া, দেরি হওয়া বা অপর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ, অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক ব্যায়াম বা পরিশ্রম, মদপান, ইনসুলিনের অসাবধানিক ব্যবহার, গøুকোজের অভাব প্রতিরোধক পদ্ধতির দুর্বলতা, পাকস্থলির দুর্বলতা, অজানা হর্মোনরোগ, আত্মীকরণের অভাব, মানসিক, ডায়াবেটিস কমার ওষুধের মাত্রা/মেয়াদ ও প্রবেশ পথের ত্রুটি ইত্যাদি।

এ কারণগুলো সমাধান করা যায় রোগীর উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা এক মাস রোজা রাখলে ডায়াবেটিস নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণে এসে থাকে। রোগের অজুহাতে রোজা না রাখা মানে রোগ আরো বাড়িয়ে ফেলা। শারীরিকভাবে সুস্থতা ও নিরোগ জীবনের জন্যই মহান আল্লাহ পাক রোজার বিধান দিয়েছেন। তাই রোগের অজুহাতে কিংবা কষ্ট হবে এই চিন্তা থেকে রোজা না রাখা কেবল খোদায়ী নির্দেশনার লঙ্ঘনই হয়; এতে শরীর ও মনেও পড়ে বিরূপ প্রভাব। যা কখনো মুসলমানদের কাছে প্রত্যাশা করা যায় না। আল্লাহ পাক আমাদের যথাযথ নিয়মে রোজা পালনের সুযোগ দান করুন।

আ ব ম খোরশিদ আলম খান
লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ, সাংবাদিক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মোস্তাফা জব্বার

মহাকাশে জয় বাংলার এক বছর

অজয় দাশগুপ্ত

দিবসহীন মা জননী

Bhorerkagoj