দশ বছরে দাদেলধুরার অর্ধেক বন উজাড়

শনিবার, ১১ মে ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : নেপালের দাদেলধুরা জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর ভূমিজুড়ে রয়েছে বিশাল বনাঞ্চল। এক দশক আগে এ এলাকায় ঘন জঙ্গল থাকলেও আজ মানুষের থাবায় এর প্রায় অর্ধেকটাই শূন্য। নেপালের সংবাদমাধ্যম জানায়, দাদেলধুরার বনাঞ্চল দুভাগে বিভক্ত। জেলার ৭৫ ভাগজুড়ে মধ্য পাহাড়ি এলাকার মহাভারত বন ও দক্ষিণাঞ্চলে চারে বন। মাস দুয়েক আগে দেশটির স্থায়ী উন্নয়ন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এ বনাঞ্চলের প্রায় ৩৫ ভাগ ইতোমধ্যে উজাড় হয়ে গেছে। পশ্চিম নেপালের ভিমদত্ত মহাসড়ক দিয়ে মহাভারত বনের প্রবেশপথ ধরে এগোলে দেখা যায়, এর বিশাল এলাকায় গাছের কোনো চিহ্নও নেই। এ পথেই জনবসতিগুলো ধীরে ধীরে বনকে গ্রাস করে ফেলছে। সরকারি তথ্য মতে, দাদেলধুরা থেকে প্রতি বছর অন্তত দুই লাখ ঘনফুট কাঠ রপ্তানি হলেও পাচারের কোনো প্রমাণ নেই। তবে স্থানীয়দের দাবি, এ এলাকায় কাঠ পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে বনের ৪০ ভাগ এলাকায় গড়ে উঠেছে জনবসতি। বিভিন্ন এনজিওর তথ্য মতে, এখানকার বাসিন্দারা মূলত নিকটবর্তী তারাই অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন। এখানকার প্রায় ৫০ হেক্টর বনভূমি অবৈধদের দখলে চলে গেছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের জন্যও বনাঞ্চল ছোট হয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দাদেলধুরার স্থানীয় বাসিন্দা ও কমিউনিটি ফরেস্ট কনজিউমার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিল্লি রাজ যোশী বলেন, প্রতিটি আঞ্চলিক ইউনিট প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে। এতে বন উজাড়ের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। পরিবেশ রক্ষার কোনো ব্যবস্থা না রেখেই এ উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। যদিও বন উজাড়ের বিষয়টিকে বড় কোনো সমস্যা বলে মনে করছে না কর্তৃপক্ষ। জেলা সহকারী বন কর্মকর্তা প্রকাশ যোশী বলেন, গাছ কাটার কারণে বন ছোট হচ্ছে, এটা ঠিক না। পুরনো গাছ কেটে ফেলায় বনে নতুন গাছ জন্মানোর সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষ ও গবাদিপশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই বনাঞ্চলের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj