সুজেয় শ্যামের স্মৃতিতে সুবীর নন্দী

শনিবার, ১১ মে ২০১৯

বরেণ্য সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক সুজেয় শ্যামের হাত ধরে ১৯৭৬ সালে ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্লেব্যাক জগতে পা রেখেছিলেন সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী। এরপর এ সুরকারের সুরে ‘তুমি তো আমার তুমি তো আমার’, ‘আমি জীবনের আয়োজন সাজিয়েছি শুধু’, ‘ভালোবাসা কিছু আশা’সহ অর্ধশতাধিক গান কণ্ঠে তুলেছেন তিনি। জীবদ্দশায় প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে গান বেঁধেছেন তারা। মৃত্যুর সাত মাস আগেও সুজেয় শ্যামের সুরে পান্না লাল দত্তের লেখা ‘রাজ প্রাসাদের ঝাড়বাতিটা’ শিরোনামে একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সুবীর নন্দী। তার কয়েক মাস পর ভারতের বেঙ্গালুরে দেখা হয় দুজনের। সুজেয় শ্যাম ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সেখানে। কথায় কথায় সুবীর নন্দী তাকে বলেছিলেন, ‘সুস্থ’ হয়ে একসঙ্গে আবারো গান করব দাদা। সুজেয় শ্যাম অভয় দিয়েছিলেন, চিন্তা করিস না। অবশ্যই গান করব। কিন্তু সেই গান আর বাধা হলো না। গত শতকের সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশ বেতারে গানের সুযোগ পেয়ে ঢাকায় এসে সুজেয় শ্যামের মগবাজারের বাসায় উঠেছিলেন তিনি। সুজেয় শ্যামের ভাষ্যে, বাসাটি সুবীর নন্দীর কাছে ‘সরাইখানা’ ছিল। বাসার ব্যালকনি, ছাদজুড়ে গানের সঙ্গে বিচরণ করতেন তিনি। বেতারে গাওয়ার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ খুঁজছিলেন সুবীর। সুজেয় শ্যামের হাত ধরেই ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদের ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের সুযোগ পেলেন। সুজেয় শ্যামের সঙ্গে চলচ্চিত্রটির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক রাজা হোসেন। যারা পরিচিত ছিলেন রাজা-শ্যাম নামে। সেই স্মৃতিচারণ করে সুজেয় শ্যাম বলেন, সামাদ ভাই (আব্দুস সামাদ) বললেন, নতুন একজন শিল্পীকে দিয়ে গানটা গাওয়াও। আমি বললাম, ভাই, সুবীরের নাম শুনেছেন? উনি বললেন, কিছু কিছু শুনেছি। পরে সুবীরকে দিয়ে ছবির জন্য দুটি গান করলাম। তবে একটি ছবিতে রাখা হয়নি। ‘দোষী হইলাম আমি দয়াল রে’ শিরোনামে লোকগানটির মধ্য দিয়েই প্লেব্যাকে অভিষেক হলো তরুণ শিল্পী সুবীরের। গানটির জন্য তাকে নির্বাচনের কারণ হিসেবে সুজেয় শ্যাম বলেন, ওর কণ্ঠে অসম্ভব দরদ দেখেছিলাম। ওর কণ্ঠে লোকসঙ্গীতের সুরটা ছিল। পরে সুবীর নন্দীকে বেশ কয়েকজন সঙ্গীত পরিচালকের কাছে পাঠান সুজেয় শ্যাম। তারা সুবীর নন্দীর কণ্ঠের মূল্যায়ন করতে পারেননি। অভিমান বুকে চেপে গান ছেড়ে সিলেটে চলেও যেতে চেয়েছিলেন। নিজেকে প্রমাণের জন্য দিনের পর দিন সংগ্রাম করে যেতে হয়েছে তাকে। তার সঙ্গীত জীবনের চড়াই-উৎরাইয়ের গল্প শোনান সুজেয় শ্যাম, শুরুতে ওর উচ্চারণে একটু সমস্যা ছিল। আমার স্ত্রী ওকে শুদ্ধ উচ্চারণে সহায়তা করেছিল। একসময় জর্দা দিয়ে পান খেত। গানের জন্য পান খাওয়াও ছেড়ে দিল। প্রথমবার বাচসাস পুরস্কার পাওয়ার পর সবার নজরে এলেন তিনি। নিজের পরিশ্রমের মূল্যায়ন পেয়ে দারুণ খুশি হয়েছিলেন। সেই খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তখন সবাই বলাবলি শুরু করলেন, সুবীরের মতো কোনো শিল্পী নেই। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই সুজেয় শ্যামের সুরে ‘তুমি তো আমার তুমি তো আমার’, ‘আমি জীবনের আয়োজন সাজিয়েছি শুধু’, ‘ভালোবাসা কিছু আশা’র মতো হিট গানে কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।

:: মেলা প্রতিবেদক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj