একটি দেশ কাঁপানো অনুষ্ঠান

শনিবার, ১১ মে ২০১৯

ভোলা নাথ পোদ্দার

গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হলো ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামের রজতজয়ন্তী উৎসব। আমাদের সব আয়োজন চূড়ান্ত থাকার পরও কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে চেয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। তবে প্রকৃতির সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন পাঠক ফোরামের বন্ধুরা!

অদম্য আগ্রহ ও ভালোবাসার কাছে সব বাধা যে তুচ্ছ হতে পারে, সেটি আবারো প্রমাণ করে ছাড়লো পাফোসরা। দিনটি ছিল শুক্রবার, ফণীর প্রভাবে সকাল থেকেই ঝরছিল বৃষ্টি। তার মাঝেই চট্টগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বালাগঞ্জ, মহেশখালী, মানিকগঞ্জ, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ সারাদেশের বন্ধুরা বৃষ্টিভেজা পথ মাড়িয়ে জমায়েত হতে থাকেন ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে। সকাল ৯টায় বিয়ামে ঢুকেই দেখতে পাই পাফো ঢাকা কমিটির বর্তমান সভাপতি মরিযাদ হারুন, পাশে কাজ করছেন বোরহান উদ্দিন, সালাম ফারুক।

এরপর একে একে আসতে থাকেন সাবেক বি. স. গিয়াস আহমেদ, পাফো বন্ধু সুলতানা শিপলু, সাবেক পাফো সভাপতি হাফিজ অলোক রহমান, সঙ্গে পাফো বন্ধু লেখক পাপড়ি রহমান, প্রিয় মানুষ আবিদা নাসরিন কলি আপা, পাফোর বর্তমান সভাপতি মরিযাদ হারুন ও সহধর্মিণী কাজল, সাবেক পাফো সভাপতি সামস সাগর, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সরফরাজ উদ্দিন পারভেজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব রানা, বর্তমান সহসভাপতি দন্ত্যস সফিক, সাবেক সহসভাপতি মেজবাহ য়াযাদ, সুলেখক রায় অঞ্জন, আবু জাফর স্বপন, হুজুর রেজা আরিফ, সুব্রত শেখর ভক্ত, নাদিম আহমেদ, আহমেদ প্রান্ত, পাফো বন্ধু লেখক খায়রুননেসা রিমি, মোর্জিনা মতিন কবিতা, লেখক শারমিন জাহান শাম্মী, ওয়াহিদ মুরাদ, লেখক জয়দীপ দে শাপলু, জাহান পন্না কিমি, শামিমা নাসরিন পলি, রেজাউর রহমান সবুজ, চট্টগ্রাম পাফো সভাপতি জালাল উদ্দিন সাগর, আনোয়ার আবসার, সপরিবারে লেখক মাইনুল এইচ সিরাজী, মশিউর রহমান মামুন, অভিনেতা ও পরিচালক মোশাররফ ভুইয়া পলাশ, আলাউদ্দিন খোকন, রিমঝিম আহমেদ, পলি জাহান, নুর আনাম, বিধান চন্দ্র পাল ও তার স্ত্রী ডালিয়া দাস, স্বপন কুমার মিস্ত্রি, ঈশান মাহমুদ, নাসির উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. হাসান শাহরিয়ার কল্লোল, পান্থ রেজা, উজ্জ্বল ধর, স্মৃতিকনা বিশ^াস, সাংবাদিক কাজী তানভীর আলাদিন, সতীর্থ হাবিব, শ্যামল কুমার সরকার, সপরিবারে ওমর ফারুক দোলা, নাজলীন সুলতানা নীলা, তানজিনা শিরিন চিনু, সাবেক সহসভাপতি কাজী সেলিম উদ্দিন, তনুশ্রী রায়, শেখ আহমেদ ফরহাদ, নূরুল আমিন হৃদয়, এস এম আজাদ হোসেন, ফাহমিদা হায়দার সোমা, মমিনুল ইসলাম লিটন, ফয়সাল আহমেদ, মুন, জাহান কলি, জলি জলন, নিলুফা ইয়াসমিন সোমা, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ আরো অনেকে। এ ছাড়াও চোখের তারায় কয়েকজন বন্ধুর চেহারা ভাসলেও নাম মনে করতে না পারায় এখানে উল্লেখ করতে পারলাম না। এ অপারগতার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী।

কি অদ্ভুত ব্যাপার! অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি দেশের বরেণ্য টিভি উপস্থাপক ও নাগরিক টিভির সিইও ডা. আব্দুন নূর তুষার চলে আসেন প্রায় সবার আগে। আমি এগিয়ে গিয়ে সালাম দিতেই উনি বললেন, আমি আগেভাগেই চলে এলাম। আমি উনার হাতে তুলে দিলাম রজতজয়ন্তীর অনবদ্য প্রকাশনা ‘অন্তরবাদ্যি’।

সাড়ে ১০টা মধ্যেই তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বন্ধু উপস্থিত হয়েছেন। সবাই উদগ্রীব, কখন শুরু হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! বিভাগীয় সম্পাদক মুকুল শাহরিয়ার ছুটছেন এদিক থেকে ওদিকে। ছোটাছুটিতে ব্যস্ত আয়োজক কমিটির মরিযাদ হারুন, বোরহান উদ্দিন, দন্ত্যস সফিক, সরফরাজ উদ্দিন, মোর্জিনা মতিন কবিতা, খায়রুননেসা রিমি, কাজী সেলিম উদ্দিন, জাহান পন্না কিমি, সতীর্থ হাবিব, ফয়সাল আহমেদ, সালাম ফারুক, সামস সাগর, নাজলীন সুলতানা নীলাসহ সবাই।

এরপর এলেন আমাদের প্রিয় শ্যামল দা, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। তখনো আসেননি প্রধান অতিথি বরেণ্য নাট্য ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এমপি। আমাদের অপেক্ষার পালা দীর্ঘায়িত না করে কিছুক্ষণ পরই তিনি এলেন। এরপরই পর্দা উঠল ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামের রজতজয়ন্তী উৎসবের।

জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু হলো অনুষ্ঠান। জাতীয় সঙ্গীতের পর ছিল ছোটদের একটি দেশাত্মবোধক গান এবং একটি নাচ। গান পরিবশেন করে খেলাঘরের বন্ধুরা আর নাচ পরিবেশন করেন পাফো বন্ধু তানিয়া। এরপরই মূল পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মঞ্চে আসন নেন প্রধান অতিথি আসাদুজ্জামান নূর, বিশেষ অতিথি ডা. আব্দুন নূর তুষার, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বার্তা সম্পাদক ইখতিয়ার উদ্দিন, পাঠক ফোরামের সাবেক বি. স. গিয়াস আহমেদ, বর্তমান বি. স. মুকুল শাহরিয়ার এবং বর্তমান কমিটির সভাপতি মরিযাদ হারুন। রজতজয়ন্তী উৎসবের আহ্বায়ক হিসেবে মঞ্চে ছিলাম আমিও।

বক্তব্য পর্ব শেষে দুই শতাধিক পৃষ্ঠার রজতজয়ন্তী সংকলন ‘অন্তরবাদ্যি’র মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। এরপর কাটা হয় ২৫ পাউন্ড ওজনের কেক। টুকরো টুকরো আকারে সেই কেক ছড়িয়ে যায় সবার হাতে। বন্ধুদের কেউ কেউ একে অপরের মুখে কেক তুলে দেয়ার স্মৃতি বন্দি করে রাখেন মোবাইল ফোনের সেলফি কিংবা ডিজিটাল ক্যামেরায়। এরই মধ্যে ডাক পড়ে মধ্যাহ্ন ভোজের।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর একক নাচ পরিবেশন করে পাফো বন্ধু সুব্রত শেখর ভক্তের মেয়ে কথা। তার নাচের পরই শুরু হয় আমন্ত্রিত শিল্পীদের গানের তালে উন্মাতাল নাচ। এ সময়ের সাড়া জাগানো দুই শিল্পী ফকির শাহাবুদ্দিন এবং শাহনাজ বেলীর সুরের তালে কোমর দোলাতে থাকেন পুরুষ-মহিলা-শিশু…সবাই! সে কি নাচ, ওরা আমাকে ও নাচাতে বাদ দেয়নি! এরপর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় একটি গান করেন রিমঝিম আহমেদ। এ গানটিও ছিল প্রাণবন্ত। তারপর ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় একটি কবিতা পাঠ করেন মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে বন্ধুদের পরিচিতি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বালাগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের বন্ধুদের পরিচিয় করিয়ে দেয়া হয়। অনেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। বাইরে তখনো ফনীর প্রভাব, চলছে ঝড় বৃষ্টি। অনেকের অনুরোধে সংক্ষিপ্ত হয় অনুষ্ঠান। পরিচিতি পর্বের পর শারমিন জাহান শাম্মী খালি গলায় একটি আধুনিক গান পরিবেশন করেন। শেষ আনন্দ আইটেম ছিল নানা-নাতি পর্ব। কয়েক বছর আগে প্রেসক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে শ্যামল দা আমাকে উপহার দেন রেডিমেট এক নাতি- ওমর ফারুক দোলা। সেই থেকে সবাই লেগে থাকে এই পর্বটি দেখার জন্য। নানা-নাতি পর্ব শেষে শুরু হয় আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্র। সবার আগ্রহ ছিল ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভিতে। লটারিতে যিনি প্রায়ই টিভি পেয়ে থাকেন সেই গেমলার ফেনীর নূরুল আমিন হৃদয় কিনেছিলেন ৪০টি টিকেট, তবে তাতেও তার ভাগ্য খোলেনি।

পাফো প্রাক্তন সভাপতি সামস সাগর ভাইয়ের নতুন পোস্টিং চট্টগ্রাম, উনার নতুন বাসায় একটি টিভি দরকার। উনি কিনলেন ২২টি টিকেট। ভাগ্য দেবী তারও সহায় হলেন না। সিলেটের এক বন্ধু মাত্র একটা টিকেট কিনেছিলেন। ভাগ্যের কৃপায় শেষ পর্যন্ত প্রথম পুরস্কারটি পেলেন তিনিই।

ফণীর প্রভাবে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সকাল এবং বিকেলে প্রায় তিন ঘণ্টা ছেটে দিত হয় অনুষ্ঠানের। তারপরও বন্ধুদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে অনুষ্ঠান, ২৫ বছরের অদেখা বন্ধুদের দেখে অনেকেই হয়েছেন বিগলিত, আপ্লুত, বিস্মিত। এভাবেই বাংলাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বন্ধুরা একটি দিন সুন্দরভাবে উদযাপন করে গেল আমাদের সঙ্গে। অনুষ্ঠান শেষে শুধু বলতে ইচ্ছা করছে-

আবার বন্ধু দেখা হবে

ভালোবাসার পথে,

ক’দিন একটু ঘুরে নাও

আনন্দ ফুলের রথে!

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj