মন তো মানে না

শনিবার, ১১ মে ২০১৯

মাইনুল এইচ সিরাজী

সমুদ্রপার থেকে ছুটে গিয়েছি রাজধানীতে। প্রাণের টানে। মাকড়সার মতো কোমরে বেঁধে রাখা অদৃশ্য সুতোটা ধরে যখনই কেউ টান দেয়, শুরু হয়ে যায় শ্যামের বংশিযন্ত্রণা-

আমি যখন রানতে বসি

তুমি তখন বাজাও বাঁশি

ধোঁয়ার ছলে কানতে বসি-

মন তো মানে না রে,

মন তো মানে না…

পাঠক ফোরাম বাঁশিটা বাজালো এমন সময়- কুশিয়ারার তখন পরীক্ষা, সামনে রোজা, হঠাৎ করে হানা দিল ফণী।

সবকিছু উপেক্ষা করে আমাদের দলবেঁধে যাওয়া।

অতঃপর সাড়ে তিন মাসের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো সিক্ত হলাম ভালোবাসায়।

চট্টগ্রামের বন্ধু সম্মিলনে সিকি শতকের কল্পনার সুরতগুলো সামনে এসেছিল। তবু অনেক রয়ে গিয়েছিল বাকি। সেটা পুষিয়ে নিয়েছি পাফোর রজতজয়ন্তীতে।

ভোলানাথ পোদ্দার, পাপড়ি রহমান, ঈশান মাহমুদ, মমিনুল ইসলাম লিটন, মরিযাদ হারুন, শামস সাগর, শারমীন জাহান শাম্মী, নাজলীন সুলতানা নীলা, মোর্জিনা মতিন কবিতা, স্মৃতি কনা বিশ্বাস, মনোয়ারা মনু, সায়মা ভূঁইয়া, পান্থ রেজা, শামীমা নাসরীন পলি, তানভীর আহমেদ হৃদয়, রেজাউর রহমান সবুজ, বোরহান উদ্দিন, উজ্জ্বল ধর, খায়রুননেসা রিমি, মুকুল শাহরিয়ার- আরও কতশত বন্ধুর নতুন সান্নিধ্য পেয়েছি। ভিজেছি বৃষ্টিতে, ভিজেছি দৃষ্টিতে। চলে গেছে ফণী কোথায়, বন্ধুরা রয়ে গেছে মণিকোঠায়।

একটা নান্দনিক প্রকাশনার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ। চট্টগ্রামের বন্ধুদের বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাখলাম।

শুরুটা হয়তো পরিকল্পনামাফিক করতে পারেননি আয়োজকরা। করপোরেট কাঠামোয় আবদ্ধ থাকার কারণে এমনটা হতেই পারে। শুরুর অসমবিন্যাস শেষে এসে আমরা আর মনে রাখিনি। শেষটা হয়েছে চমৎকার। গানের ছন্দে সেই মুহূর্তে বুড়োরাও হয়ে গিয়েছিলেন খোকাখুকি। এমন ক্ষণ মানুষের জীবনে বারবার আসে না। বিয়াম মিলনায়তনে সেদিন এসেছিল পাফোর কল্যাণে।

তবু একটু খুঁতখুঁতি আছে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জেনেছি, পরিচিত এমন অনেকেই এসেছেন যাঁদের সঙ্গে সারা অনুষ্ঠানে একবারের জন্যও দেখা হয়নি। আহা, হারানো এই সুযোগ কি আর ফিরে পাব কখনো?

আরেকটা বিষয় বলি। অনেক বন্ধুকেই মঞ্চে তুলে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাদ পড়েছেন কিছু বিখ্যাত পাফোস। আয়োজকরা বন্ধুদের নামের লিস্টটার প্রতি আরেকটু মনোযোগ দিলে হয়তো এই ভুলটা হতো না।

তবু যা হয়েছে, ভালো হয়েছে। এরকম একটু অনুষ্ঠান নামানো কী যে কঠিন সেটা আমি হাড়ে হাড়ে জানি।

দুপুরের পর আমার মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তবু শেষ পর্যন্ত ছিলাম। কিন্তু মেয়ের ছটফটানির কারণে বিদায়বেলায় কাউকে বলে আসতে পারিনি। এই জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

চট্টগ্রামের বন্ধুদের পক্ষ থেকে আরেকবার ধন্যবাদ জানিয়ে আশা করছি, আবার মিলিবে প্রাণ হেথায় বা হোথায়- অন্য কোনো উপলক্ষে।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj