গোলটেবিলে বক্তারা : আইন না মানার প্রবণতায় বাড়ছে দুর্ঘটনা

শুক্রবার, ১০ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আইন না মানার প্রবণতার কারণেই সড়কে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। শুধু আইন প্রয়োগ করে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। আইন না মানলে সব চেষ্টাই বৃথা। প্রত্যেক নাগরিককেই আইন মেনে সড়ক ব্যবহার করতে হবে। জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ৫ম বিশ^ নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক : আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সংগঠনের সহসভাপতি তাওহিদুল হক লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রবন্ধে তিনি বলেন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশি^ক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ হাজার ৩১৬ জন নিহত হয়েছে। ২০১৬ সালে নিহত হয়েছে ২৪ হাজার ৯৫৪ জন। অর্থাৎ ৪ বছরের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩৮ জন বেড়ে যায়। ২০১২ সালের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৮৫ শতাংশ পুরুষ ও ১৫ শতাংশ নারী। সড়ক ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী এদের ৪১ শতাংশ পথচারী, ১৯ শতাংশ প্রাইভেটকার ও হালকা যানবাহনের যাত্রী, ১৬ শতাংশ দুই ও তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী, ৯ শতাংশ বাসযাত্রী, ৭ শতাংশ মোটরসাইকেল আরোহী। সংস্থাটি বলছে, ৪১ শতাংশ পথচারী এবং দুর্ঘটনার শিকার অন্যান্য শ্রেণির ব্যক্তিদের একটা বড় অংশ হচ্ছে সমাজের নি¤œ ও মধ্যম আয়ের মানুষ। ফলশ্রæতিতে, দুর্ঘটনার পর কেউ আহত বা পঙ্গু হলে পরিবারকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটা বড় ধরনের ব্যয়ভার বহন করতে হয়।

প্রবন্ধে আরো বলা হয়, সড়কে দুর্ঘটনার ক্ষতির পরিমাণ বা ভয়াবহতা নির্ভর করে গাড়ির গতিসীমার ওপর। আমাদের দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের নয়। এসব সড়কে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানোর সুযোগ-সুবিধা আছে। কিন্তু ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চালানো হয়। ফলে প্রাণহানি ও সম্পদহানি বেশি হচ্ছে। গাড়ির সিলিন্ডার পর্যন্ত বিস্ফোরিত হচ্ছে। প্রাণহানির ভয়াবহতা বাড়ছেই।

বক্তারা বলেন, জাতিসংঘ নির্দেশিত লক্ষ্য অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সড়ক নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সব জাতীয় মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস রোড তৈরি করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের নানামুখী তৎপরতা দেখা গেলেও প্রকৃতপক্ষে জাতীয় বাজেটে এর কোনো প্রতিফলন নেই। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ কার্যক্রমের জন্য অর্থনৈতিক কোনো কোড নাই। তাই এবারের বাজেটে একটি অর্থনৈতিক কোড চালুসহ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, আক্রান্তদের উদ্ধার, চিকিৎসা সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা তথা ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য জাতীয় বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার দাবি জানানো হয়।।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও এফবিসিসিআইর পরিচালক আবদুল হক, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, বিআরটিএর রোড সেইফটি শাখার সহকারী পরিচালক মো. নেয়ামত উল্ল্যা লেনিন, রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সিনিয়র আরবান প্ল্যানার তপন কুমার নাথ, যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল, যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন পলাশ, মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj