ক্যাম্পাসে ইফতার

বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০১৯

রাতে হলের ডাইনিংয়ে সেহরি করতে হলে ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হয়। একটু দেরি হলে আর খাবার পাওয়া যায় না। পরে চিড়া বা অন্য কিছু দিয়ে রোজা রাখতে হয়। নতুবা না খেয়েই থাকতে হয়। তবে মেয়েদের হলের চিত্রটা ছেলেদের হল থেকে কিছুটা ভিন্ন। কেননা তারা রান্না করে খেতেই বেশি পছন্দ করেন। রান্না করতে চাইলেও সবাই হলে রান্না করার সুযোগ পান না। ক্যাম্পাসে ইফতারের আরেকটা দারুণ দিক হলো প্রতিদিনের আয়োজনের বাইরেও মাঝে-মধ্যেই একটু ঘটা করে ইফতার পার্টির আয়োজন। আর এই ইফতার আয়োজনগুলো শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে বিশাল গেট টুগেদারে। ক্যাম্পাসে বহুদিনের আড্ডার বড়

ভাই-বোনেরাও চলে আসেন ফেলে যাওয়া দিনগুলো ফিরে পাওয়ার জন্য। এভাবে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসে মেলেন অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। আর এমন আড্ডা মানেই তো নানা ঠাট্টা-তামাশা আর বাঁধন হারা হাসির ফোয়ারা। পুরো রমজান মাস জুড়েই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন থাকে চোখে পড়ার মত।

এ ছাড়াও, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা ও অঞ্চলভিত্তিক সংগঠন এবং বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন তো আছেই। এভাবে পুরো রমজান মাসেই একের পর এক সংগঠনের ইফতার আয়োজন চলতেই থাকে। রমজান হলো আত্মশুদ্ধির মাস। রমজান পালনের দুটি বড় মাধ্যম হলো সেহরি ও ইফতার। সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে রমজান মাস। তবে শহর কিংবা গ্রামের মতো সেহরি-ইফতারে অনেকটা ভিন্নরূপ দেখা যায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। প্রতিবারের মতো রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা থাকায় এবারো ক্যাম্পাসেই থাকতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার মানেই আলাদা অভিজ্ঞতা। শেষ রাতে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসে সেহরি খাওয়ার মাঝে থাকে যেন অন্যরকম রোমাঞ্চ। ক্যাম্পাসে সবুজ ঘাসের ওপর পত্রিকা বিছিয়ে সহপাঠী বা বন্ধুদের নিয়ে ইফতার করলে সব ক্লান্তি যেন এক নিমিষেই দূর হয়ে যায়।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ডাইনিংগুলোতে সেহরি খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি হলের খাবার প্রায় একই রকম। অন্য মাসের চেয়ে রমজান মাসে মিল চার্জ একটু বেশি করা হয়ে থাকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলেন, রাতে হলের ডাইনিংয়ে সেহরি করতে হলে ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হয়। একটুখানি দেরি হলে আর খাবার পাওয়া যায় না। পরে চিড়া বা অন্য কিছু দিয়ে রোজা রাখতে হয়। নতুবা না খেয়েই থাকতে হয়। তবে মেয়েদের হলের চিত্রটা ছেলেদের হল থেকে কিছুটা ভিন্ন। কেননা তারা রান্না করে খেতেই বেশি পছন্দ করেন। রান্না করতে চাইলেও সবাই হলে রান্না করার সুযোগ পান না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ডাইনিংয়ে সেহরি করার জন্য রাত সোয়া তিনটার দিকে উঠে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবারের টোকেন নিতে হয়। এর একটু পরে গেলে আর টেবিলে সিট পাওয়া যায় না। দাঁড়িয়েই সেহরি করতে হয়। আর ঘুম থেকে তিনটার পর উঠলে তো কথাই নেই। নির্ঘাত না খেয়েই রোজা রাখতে হবে। রমজান মাসে ডাইনিংয়ে সেহরি করার আরেক নাম মহাকষ্ট বলে উল্লেখ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যানের মাস্টার্স শিক্ষার্থী বলেন, সব জেলার বেশিরভাগ ইফতার আয়োজন হয় টিএসসিতে। এ ছাড়াও, অপরাজেয় বাংলার বটতলা, লাইব্রেরি চত্বর, ডাকসু ক্যাফেটারিয়া, কার্জন হলসহ বিভিন্ন স্থানে বসে ইফতারের মেলা। ইফতার পার্টিতে সিনিয়র-জুনিয়র সকলেই একত্রিত হয়। বৃদ্ধি পায় সৌহার্দ্য। ভাগাভাগি হয় সুখ-দুঃখের হাজারো কথা। সুযোগ থাকে নেতৃত্ব বিকশিত করার। এ ছাড়াও, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও রমজান মাসে জমে ওঠে ইফতারের জমজমাট আয়োজন। :: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj