শিল্পীর জন্য শোকগাথা

বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০১৯

৭ মে না ফেরার দেশে চলে গেছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী। সঙ্গীতে তার অবদানের কথা স্মরণ করলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা

সুবীরদা শিল্পী হিসেবে যেমন সবার কাছে প্রিয় ছিলেন তেমনি মানুষ হিসেবেও প্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশে আমার মনে হয় না কোনো শিল্পী আছেন যিনি বলতে পারবেন সুবীরদার সঙ্গে কোনো মনোমালিন্য হয়েছে। তিনি সর্বজনপ্রিয় একজন মানুষ ছিলেন সত্যিকার অর্থে শিল্পী বলতে আমরা যা বুঝি।

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী

সুবীর নন্দীর সাংস্কৃতিক

জীবনের সাধনা এবং ওনার ব্যক্তিগত জীবন সবকিছু মিলেই আমরা বলতে পারি বাংলাদেশে খুব অল্পসংখ্যক শিল্পী এমন ডেডিকেশনের মাধ্যমে গানকে ভালোবেসে সর্বজন শ্রদ্ধেয়ভাবে বিদায় নিলেন। ওনার গানগুলো হয়তো অমর হয়ে থাকবে কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতির যে পরিচয় এটার জন্য সুবীর নন্দীর অবদান ছিল অন্যতম।

রফিকুল আলম, সঙ্গীতশিল্পী

সুবীর নন্দীর চলে যাওয়াতে আধুনিক বাংলা গানের ক্ষতি হল। তিনি গানকে অনুভব করতেন এবং ধারণ করতেন। যার কারণে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি গানের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন।

রামেন্দু মজুমদার, নাট্যকার

সঙ্গীতের প্রতি তার কমিটমেন্ট, ভালোবাসা, আগ্রহ এবং শ্রদ্ধাবোধের কারণেই তাকে এত মানুষ ভালোবাসে। একটা জিনিস এমনি এমনি সুন্দর হয় না। সুন্দর হয় কখন যখন সুন্দরভাবে সবাইকে সাজানো হবে। সাজানোর ক্ষমতা তার থাকে যে এটাকে ধারণ করতে পারে। সুবীরের মধ্যে সেই ধারণ ক্ষমতা ছিল।

রথীন্দ্রনাথ রায়, সঙ্গীতশিল্পী

সুবীর নন্দীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আধুনিক বাংলা গানের একটি নক্ষত্র নেমে গেল। এটি বহু দিনে পূরণ হওয়ার নয় এবং এটি একটি সামগ্রিক শূন্যতা। কারণ সুবীর নন্দী ছিলেন একজন টোটাল আর্টিস্ট। তিনি যেমন কীর্তন গাইতেন, ভজন, নজরুল গীতিসহ সব গান তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সুবীর নন্দী বাংলা গানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। শাহানাজ রহমতউল্লাহ, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়ামিনরা যেমন বাংলা গানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, তেমনি একজন সুবীর নন্দী। তিনি ছিলেন আধুনিক গানের এক নক্ষত্র। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আধুনিক গানের এক নক্ষত্রের পতন হলো। সুবীর নন্দী ছিলেন সবার ভালোবাসার শিল্পী। তার আচার-আচরণ তার ব্যবহার তার মৃদু ভাষ্য, তার সব কিছুই ছিল ভালোবাসায় মোড়ানো। বাংলাদেশের সঙ্গীতে নিবেদিত ছিলেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, তিনি সঙ্গীতকে ভালোবেসে ছিলেন।

ফকির আলমগীর, গণসঙ্গীত শিল্পী

উনি সঙ্গীতে আসার আগে থেকেই আমার সঙ্গে পরিচয় ছিল। উনার চলে যাওয়ারটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য, অবশ্যই বাংলা গানের জগতে অপূরণীয় ক্ষতি। উনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন যতদিন বাংলা গান থাকবে।

আলমগীর, চলচ্চিত্র অভিনেতা

শিল্পী হিসেবে সুবীরদার সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি ছিল তা হলো- যে কোনো ধরনের গান ওনার কণ্ঠে মানাত। শুদ্ধ সঙ্গীত চর্চার দিক দিয়ে যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে হাতেগোনা কয়েকজনের মধ্যে উনি ছিলেন।

খুরশিদ আলম, সঙ্গীতশিল্পী

তিনি সুকণ্ঠ সুরের অধিকারী, ছিলেন ভালো মানুষ। তার মতো বিনয়ী শিল্পী তার গানের মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকবেন।

মামুনুর রশিদ, নাট্যকার

এতবড় একজন শিল্পী; উনার গান পছন্দ করেন না এমন মানুষ বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। উনি ঈশ্বরের সৃষ্টি। আমার মনে হয়, ঈশ্বর উনাকে বেশি ভালোবাসতেন। উনি বাঙালির কান তৈরি করে দিয়ে গেছেন। শুদ্ধ ধারার গান করে গেছেন।

অরুণা বিশ্বাস, অভিনয়শিল্পী

দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তার সঙ্গে পরিচয়। তার গান আধুনিক বাংলার প্রকৃত সঙ্গীত। শুদ্ধ গানের চর্চা করতেন তিনি।

শুভ্র দেব, কণ্ঠশিল্পী

:: বিনোদন প্রতিবেদক

বিনোদন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj