স্টার অব দ্য উইক : মনিকায় মুগ্ধ ফিফা

মঙ্গলবার, ৭ মে ২০১৯

কদিন আগে পর্দা নেমেছে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের। শুরুটা দুর্দান্ত হলেও ঘূর্ণিঝড় ফণীর আতঙ্কেই বহুল প্রত্যাশিত ফাইনাল ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য হয় বাফুফে। ফাইনাল উপভোগ করতে না পারার আক্ষেপ রয়ে গেছে সবার মনে। তবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের মিডফিল্ডার মনিকা চাকমার দুর্দান্ত কীর্তি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনায়। ৩০ এপ্রিল সেমিফাইনালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে মনিকার চাকমার গোলটি এখনো দর্শকদের চোখে ভাসছে। এমনকি ফিফার দর্শক জরিপে সপ্তাহের সেরা গোলের তালিকায় জায়গা পেয়েছে ওই দিন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে করা মনিকার গোলটি। ফিফার ওয়েবসাইটে গোলটি আপলোড করে শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘ম্যাজিক্যাল চাকমা’। ফিফা প্রতি সপ্তাহে এভাবে তাদের দর্শক জরিপের মাধ্যমে কয়েকটি বিভাগে বেছে নেয় সেরা ফুটবলারদের। সপ্তাহের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের এ মিডফিল্ডার।

লাজুক স্বভাবের মনিকার জন্ম খাগড়াছড়িতে। তবে মজার ব্যাপার হলো ছোটবেলা থেকেই তিনি ফুটবল খেলতে ভালোবাসতেন। খাগড়াছড়ির লক্ষীচরে মনিকার বাবা বিন্দু কুমার কৃষিকাজ করেন আর মা রবি মালা গৃহিণী। ৫ বোনের মধ্যে সবার ছোট মনিকা চাকমা। পরিবারের কারোরই সম্পৃক্ততা নেই ফুটবলে সঙ্গে। বিন্দু কুমার ও রবি মালার কেউ-ই চাননি তার কোনো মেয়ে ফুটবল হোক। মনিকা খেললেও তাকে বকা দিতেন, বাধা দিতেন। বাবা-মায়ের বকুনি হজম করেই ফুটবল নিয়ে মাঠে ছুটে যেতেন মনিকা। ২০১১ সালে বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্টে ফুটবল খেলেছেন ময়মনসিংহের হয়ে। দুই বছর পর খেলেছেন নিজ স্কুলের জার্সি গায়ে। বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা সেই মনিকাই বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে নিজের ভেল্কি দেখালেন। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের নাকানি-চুবানি খাইয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেয়া আর রক্ষণ দেয়াল ভেঙে বল জালে পাঠানোয় বেশ দক্ষ মনিকা চাকমা। এর আগে গত মার্চে মিয়ানমারের মান্দালা থিরি স্টেডিয়ামে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাইপর্বে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে কর্নার থেকে মনিকা অসাধারণ গোল করেন। তার কর্নার কিকে উড়ে আসা বল মিয়ানমারের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে ওই ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পায় বাংলাদেশ।

:: কামরুজ্জামান ইমন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj