এখনো বহু দূরে নারীর অধিকার

সোমবার, ৬ মে ২০১৯

অন্যপক্ষ প্রতিবেদক

চলতি বছর পয়লা মে মহান মে দিবসের ১২৯ বছর পূর্তি হলো। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন শ্রমিকরা। কিন্তু এখনো কি নিশ্চিত হয়েছে শ্রমিকের অধিকার? দূর হয়েছে কি বৈষম্য? এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো সবার জানা। নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে যে এ বৈষম্য ও বঞ্চনা আরো বেশি সেটিও অজানা নয়। মাঠে-ঘাটে কাজ করা পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকরা এখনো কম বেতন পান। প্রতিবাদ করলে অনেক সময় নারী শ্রমিকদের কাজে নেয়াও হয় না। পাচ্ছেন না অধিকার, নেই নিরাপত্তা। নানা বৈষম্যের মধ্যে প্রতিনিয়ত অবহেলিত হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। তবুও তারা জীবন জীবিকার তাগিদে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালে শ্রম আইন প্রণয়ন করেন। শ্রম আইনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ‘নারী শ্রমিকদের ৬ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের জন্য ডে-কেয়ার, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করাতে হবে মালিক পক্ষ থেকে। কিন্তু বেশির ভাগ কলকারখানায় এই আইনের প্রয়োগ নেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৈরি পোশাক খাতের সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানায় এখনো ২২ শতাংশ নারী শ্রমিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাবে এসব কারখানা কর্মক্ষেত্র হিসেবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিশ্বের কাজের বাজার যখন ক্রমাগত কমে যাচ্ছে, তখন গত ২০ বছরে পুরুষের যোগদান নেমে এসেছে ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৭৪ শতাংশে, আর নারীদের ক্ষেত্রে তা ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে নেমেছে ৫১ শতাংশে। গত দুদশকে নারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়লেও তার কোনো প্রতিফলন নেই কর্মক্ষেত্রে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৈরি পোশাক খাতে ২০১৩ থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত ২০ শতাংশ নারী শ্রমিক কমেছে। পোশাক মালিকরা অধিকাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কথা বললেও বাস্তবে মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় রয়েছে। প্রতিবেদনে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিতে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে উল্লেখ করে নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি না দেয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনে মালিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত হলেও ক্ষুণœ হয়েছে শ্রমিকদের স্বার্থ। এ কারণে অনেক শ্রমিক চাকরিচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি মামলার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র কারাখানাগুলো সবচেয়ে বেশি অনিয়ম করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমির আন্দোলন হোক অথবা শ্রমিক আন্দোলন, সামাজিক আন্দোলন বা দাবি আদায়ের আন্দোলন- সব ক্ষেত্রেই পুরোভাগে ছিলেন নারীরা। কিন্তু এক যুগ পরও বাস্তবে নারীর সমঅধিকার আজো পূর্ণতা পায়নি।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj