ফণীর আঘাতে তছনছ পুরী-ভুবনেশ্বর

শনিবার, ৪ মে ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : সময়মতো আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা। আর সেই অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি। কিন্তু তাতেও প্রকৃতির তাণ্ডবলীলা থেকে রেহাই পেল না পুরী, ভুবনেশ্বরসহ ওড়িশার উপক‚ল বরাবরের গ্রাম শহর। লন্ডভন্ড বললেও সেই ধ্বংসলীলার প্রকৃত ছবিটা তুলে ধরা কঠিন। গাছপালা উপড়ে, ভেঙে, বাড়িঘর তছনছ করে উদ্দাম গতিতে ছুটে চলেছে ফণী। এখনো পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বহু জায়গায় রেললাইন উপড়ে গিয়েছে। রাস্তার ওপর ভেঙে পড়েছে টাওয়ার, বিদ্যুতের খুঁটি। পুরী, ভুবনেশ্বরের প্রবীণদের অনেকেই বলছেন, প্রকৃতির এমন ভয়াল-ভয়ানক রূপ আগে কখনো দেখেননি তারা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মূলত শহরাঞ্চলের ছবিটাই উঠে এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। কারণ ওড়িশার বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল এখনো বিচ্ছিন্ন। সেই অঞ্চলের চিত্র যে আরো ভয়াবহ হবে, সেটা আন্দাজ করে এখনই আঁতকে উঠছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাদের অনেকেই বলছেন, কংক্রিটে মোড়া শহরের এই ছবি থেকেই বোঝা যাচ্ছে কার্যত গ্রামের পর গ্রাম মাটিতে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা। তবে আপাতত আশার কথা একটাই, ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার’ থেকে ‘ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’-এ পরিণত হয়েছে ফণী। আর এ রাজ্যে ঢোকার আগে শক্তিক্ষয় হয়ে সেই ঝড়ই হয়ে যাবে ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’।

পূর্বাভাস ছিল শুক্রবার দুপুরে ওড়িশার উপক‚লে পুরী এবং চাঁদবালিতে আছড়ে পড়বে ফণী। কিন্তু গতি বেড়ে যাওয়ায় তার আগে সকাল দশটা নাগাদই ওড়িশার উপক‚লে শুরু হয়ে যায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া এবং তুমুল বৃষ্টি। আর দুপুর ১২টার মধ্যেই উপক‚ল ভাগে পুরোপুরি পৌঁছে যায় ফণী। অর্থাৎ উপক‚লে পৌঁছে যায় ‘আই অফ দ্য স্টর্ম’ বা ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দু। তার পর থেকেই প্রবল গতিতে এগচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের দিকে।

ফণীর প্রথম শিকার পুরী এবং সংলগ্ন এলাকাগুলো। আগে থেকেই পুরীর সমস্ত হোটেল, লজ খালি করে দেয়া হয়েছিল। কার্যত জনমানবশূন্য ছিল সৈকতশহর। কিন্তু রক্ষা পায়নি স্থায়ী কাঠামো, বাড়িঘর, গাছপালা। ফুঁসছে সমুদ্র। বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপক‚লে। বাঁধ উপচে ইতোমধ্যেই শহরে জল ঢুকছে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj