পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দারা প্রহর গুনছেন : ঘরটা আস্ত পাব তো?

শনিবার, ৪ মে ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : রাত থেকেই আতঙ্ক। সকাল হতে সেটা আরো বেশি করে চেপে বসে মনে। পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র উপক‚লের ধারে জলদা, চাঁদপুর এলাকার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মানুষের মনে কেবল একটাই চিন্তা, ‘ঘরটা আস্ত পাব তো?’ শুক্রবার বিকেল নাগাদ জলদা সাইক্লোন রেসকিউ সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে মনে জাগা এমন আশঙ্কার কথা জানান আয়লার দগদগে ক্ষত বহন করা সুশীল দলুই। এমন বক্তব্য সেখানে আশ্রয় নেয়া শত শত জেলেরও। দিঘা জাতীয় সড়ক থেকে শঙ্করপুর হয়ে যে রাস্তা তাজপুরে পৌঁছায়, রামনগর ব্লুকের সেই রাস্তার ধারেই জলদা আর চাঁদপুর। সমুদ্রের পাড় ঘেঁষে রাস্তা। তার ধারেই একের পর এক গ্রাম। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই হাওয়ার তেজ যে বাড়ছে, তা টের পাচ্ছিলেন এলাকার মানুষ। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল সমুদ্রের গর্জনও। শুক্রবার সকালে যখন ফণী আছড়ে পড়ে পুরীর কাছে, তখন থেকেই যেন আরো ফুঁসে উঠতে শুরু করে সমুদ্র। পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে যেতে পারে, তা আঁচ করতে পেরেছিলেন দিন-রাত সমুদ্র আর নোনাজলের সঙ্গে ঘর করা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের এই মানুষরা।

বছর পঞ্চাশের সুশীল দলুই আর দেরি করেননি। সমুদ্রের মতিগতি দেখেই গরু-বাছুরসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাজির হন কয়েক বছর আগে তৈরি হওয়া সাইক্লোন রিলিফ সেন্টারে। স্থানীয়দের কাছে যা আয়লা সেন্টার নামে পরিচিত। বৃহস্পতিবার জলদা সাইক্লোন রেসকিউ সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে সুশীল দলুই বলেন, সেবার বাঁধ ছাপিয়ে দৈত্যের মতো ঢেউ ঢুকে পড়েছিল গ্রামে। কিছু বোঝার আগেই জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল গোটা গ্রাম। কোনো মতে পেছনের ঝাউ-বাবলার জঙ্গলে গাছের গুঁড়ি আঁকড়ে প্রাণ বাঁচিয়ে ছিলেন। সেই স্মৃতি আর ফিরে আসুক চান না তিনি। চান না সুশীলের মতো গ্রামের বাকিরাও। তাই সকাল বেলা হাওয়ার গতি আর দরিয়ার ঢেউয়ের মতিগতি দেখেই গ্রামের প্রায় ছয়শ পরিবার সকাল ৯টার মধ্যেই সমুদ্রের ধার ঘেঁষে তৈরি হওয়া ‘আয়লা সেন্টারে’ চলে এসেছেন।

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা প্রশাসক দেবব্রত দাস বলেন, গোটা জেলায় একশোরও বেশি এমন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সমুদ্রের ধার বরাবর শুধু এই মৎস্যজীবী গ্রামগুলোর জন্যই আছে মোট ১৪টি আয়লা সেন্টার। চাঁদপুরের বাসিন্দা ঝন্টু দলুই। সমুদ্রের পাড়ে বাঁধের জন্য দেয়া শালখুঁটি আর বোল্ডার দেখিয়ে বলেন, জল ওঠা শুরু হলে এ বোল্ডার আর শালখুঁটি ১০ সেকেন্ডও দাঁড়াতে পারবে না।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj