ভেনেজুয়েলা : দুই পরাশক্তির টানাপড়েনে

শনিবার, ৪ মে ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার বামপন্থি নিকোলাস মাদুরো সরকার উৎখাতের জোর প্রচেষ্টা শুরু করেন। গণমাধ্যম ব্যবহার করে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার ধূ¤্রজাল তৈরির পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তার প্রশাসন। দেশটিতে সর্বশেষ সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তার দেশের নিউজ চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলায় অবশ্যই সামরিক হস্তক্ষেপ করা হবে। পম্পেও এর দুদিন আগেও একবার দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশত্যাগ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু রাশিয়া তাকে বাধা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কড়া জবাব দিয়ে রাশিয়া জানায়, এটি মিথ্যাচার।

এদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ তার মার্কিন সমকক্ষ পম্পেওকে টেলিফোন করে কারাকাসের বিরুদ্ধে যে কোনো বিদ্বেষী পদক্ষেপের ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি ভেনেজুয়েলায় যে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন সরকার সে রকম কোনো পদক্ষেপ নিলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। গত ৩০ এপ্রিল থেকে ভেনেজুয়েলার চলমান সংকট নয়া রূপ ধারণ করে। ওই দিন ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো এক ভিডিও বার্তায় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করতে জনগণ ও সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। হাতেগোনা কয়েকজন সেনা সদস্যকে গুয়াইদোর আশপাশে দেখা গেলেও ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর মূলধারা গুয়াইদোর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এর ফলে মার্কিন প্ররোচনায় দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশের পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের নিজের পাশে বসিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ব্যর্থতার কথা ঘোষণা করেন।

গত ২৩ জানুয়ারি গুয়াইদো আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দাবি করেন। পশ্চিমা দেশগুলো সঙ্গে সঙ্গে ৩৫ বছর বয়সী গুয়াইদোকে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে নিকোলাস মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে আসছে। আমেরিকার এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ায় দেখিয়েছে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক প্রধান দুই প্রতিদ্ব›দ্বী চীন ও রাশিয়া।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj