গায়িকার ঘরে গোলমাল

শনিবার, ৪ মে ২০১৯

তারা সুরে সুরে মাতিয়ে রাখেন শ্রোতার হৃদয়। আনন্দে, বিরহে তাদের গান জাগিয়ে রাখে শ্রোতাকে। অথচ আলোর নিচেই অন্ধকার। গায়িকারা ভালো নেই। সংসারের ঝড়-ঝাপটায় এলোমেলো তাদের জীবন। মনের মতো সঙ্গীর অভাবে তাদের জীবন অস্থির। পারিবারিক অশান্তি প্রভাব ফেলছে তাদের সঙ্গীত-জীবনেও। যেন ছন্দহীন জীবনের গায়িকা তারা। চার জনপ্রিয় গায়িকার উত্তাল সংসারের গল্প শোনাচ্ছেন মেলা প্রতিবেদক

নতুন সংসার-সমুদ্রে সালমা

২০১১ সালে দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিকের সঙ্গে বিয়ে হয় ‘তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশে’র চ্যাম্পিয়ন সালমা। ২০১৬ সালে বনিবনা না হওয়া সেই সংসারে বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের সংসারে ¯েœহা নামের এক কন্যা রয়েছে। ¯েœহা এখন মায়ের কাছেই থাকে। প্রথম বিয়ের যন্ত্রণা কাটিয়ে গত বছরের শেষের দিকে আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন সালমা। তার বর সানাউল্লাহ নূরে সাগর। যিনি ঢাকা জজ কোর্টের এডভোকেট। তিনি ময়মনসিংহ হালুয়াঘাটের ছেলে। বর্তমানে লন্ডনে ‘বার অ্যাট ল’ করছেন। চলতি বছরের শুরুতেই রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদকর্মীদের ডেকে সালমা তার দ্বিতীয় বিয়ের সুখবর জানান। ৩১ ডিসেম্বর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাগর আবার ফিরে গেছেন লন্ডনে। এই তথ্যের সঙ্গে সঙ্গে সালমা তখন জানিয়েছিলেন, চার মাস পর তার স্বামী ‘বার অ্যাট ল’ শেষ করে দেশে ফিরবেন। তখন ঘটা করে অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু তার আগেই সালমার সংসারে দেখা দেয় অশনিসংকেত। বিয়ের খবর প্রকাশের তিন মাস পর জানা গেল, সালমার বর্তমান স্বামী সাগর আগে আরেকটি বিয়ে করেছেন। ২০১৪ সালের সাগরের প্রথম বিয়েটি হয়। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না বলে শুরুতে সংবাদমাধ্যমকে জানালেও পরে সালমা জানান, তিনি সাগরের বিয়ের ব্যাপারে সব জানতেন। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে গোপনে সালমাকে বিয়ে করেছেন সাগর, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানিয়েছেন, ডিভোর্সের তিন মাস পার হওয়ার পরই তিনি সালমাকে বিয়ে করেছেন। হয়রানি করার জন্যই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সংসারের হাতছানি মিথিলার সামনে

গায়িকা মিথিলা ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন গায়ক তাহসান খানের সঙ্গে। তাদের সংসারে আসে আইরা তেহরীম খান। ২০১৭ সালের মে মাসে তাহসান-মিথিলার প্রায় ১১ বছরের সংসারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। প্রায় দুই বছর ধরেই মিথিলা ও তাহসান আলাদাভাবে থাকছিলেন। আলাদা থেকে তারা নিজেদের মধ্যকার সমস্যাগুলো মিটমাটের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বোঝাপড়া না হওয়ায় চূড়ান্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে মিথিলা জানিয়েছিলেন, ‘জীবন চলার পথের একটা সময় এসে আমরা বুঝতে পারলাম, দুজন মানুষ যার যার জায়গা থেকে দুধরনের জিনিস চাই। তাহসানের জীবনের লক্ষ্য হয়তো একরকম, আমার হয়তো আরেক রকম। তবু দুজন ভিন্ন রকম মানুষ তো একসঙ্গে থাকে। আমরাও থেকেছি। শেষ পর্যন্ত আর হলো না। আমাদের যখন বিয়ে হয়, তখন আমাদের দুজনের বয়সই অনেক কম। আমাদের ক্যারিয়ারও একসঙ্গে গড়ে উঠেছে। এমন না যে, কেউ কারো আগে বা পরে এসেছি। কিন্তু একটা সময় এসে মনে হচ্ছিল, ১১ বছর আগের একজন মানুষ আর পরের একজন এক থাকে না। অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। তাই বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে।’ মিথিলা আগামী বছর বিয়ে করছেন কলকাতার চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিকে। এ খবর চাউর হয়েছে ঢাকা-কলকাতা দুই জায়গাতেই। যদিও দুজনেই একথার সত্যতা অস্বীকার করে নিজেদের ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ বলে জাহির করছেন।

ভাঙতে ভাঙতে টিকলো ন্যান্সির সংসার

২০০৬ সালে ভালোবেসে ব্যবসায়ী আবু সাঈদ সৌরভকে বিয়ে করেন নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। ২০১২ সালের ২৪ মে ছয় বছরের সেই সংসার জীবনের ইতি ঘটে। তাদের সংসারের একমাত্র নিশান মেয়ে রোদেলা। ন্যান্সি প্রথম সংসারের তিক্ত স্মৃতিকে পেছনে ফেলে আবার বিয়ে করেন নাজিমুজ্জামান জায়েদকে। ২০১৩ সালের ৪ মার্চ এই বিয়ে হয়। জায়েদ ময়মনসিংহ পৌরসভায় চাকরি করছেন এবং ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। ন্যান্সি-জায়েদের ঘরে আসে নায়লা নামের এক কন্যা। কিন্তু সেই সংসারেও লাগে আগুন। ন্যান্সি ও তার স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদ অনেকদিন ধরেই একসঙ্গে থাকছিলেন না। গত বছরের একেবারের শেষে এ খবর শ্রোতাদের কানে বাজতে থাকে। ন্যান্সির সংসারের অশান্তির খবরে মর্মাহত হয়েছিলেন তার ভক্তরা। তখন তাদের দুজনের মান-অভিমানের কথা স্বীকার ন্যান্সি বলেছিলেন, বিচ্ছেদের জন্য নয়, স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কটাকে আরেকটু ঝালিয়ে রঙিন করে তুলতেই আলাদা থাকছেন তিনি। প্রায় দুই মাস আলাদা থাকার পর অবশেষে সব অভিমান ভুলে এক হন ন্যান্সি ও জায়েদ। সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ন্যান্সি লিখেছেন, ‘নিন্দুকের মুখে ছাই। আমাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল, আছে। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগও হতো। দূরে থাকলেও আমাদের দুজনের মধ্যে মনের দূরত্ব হয়নি। অবশেষে সব রাগ-অভিমান ভুলে এক হয়েছি আমরা।’ সংসার টিকিয়ে রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সেইপাস্টে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছেন অনেকেই। অনেকেই ছেড়েছেন স্বস্তির নিঃশ^াস। যাক, একটি সংসার টিকে গেল।

সংসার নয়, বিচার চান মিলা

১০ বছর প্রেমের পর ২০১৭ সালের মে মাসে পাইলট পারভেজ সানজারিকে বিয়ে করেন গায়িকা মিলা। অথচ বিয়ের মাত্র ১৩ দিন পরই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ২২ মে মিলা-সানজারির বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যায়। সম্প্রতি ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় সাবেক স্বামী সানজারি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন মিলা। ওই সময় সাবেক স্বামীর সঙ্গে অভিনেত্রী নওশীনের সম্পর্কের কথা জানান তিনি। মিলা জানান, পারভেজ সানজারির সঙ্গে অভিনেত্রী নওশীনের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ ছিল। মিলার এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন নওশীন। এর আগে, গত ১৬ এপ্রিল সংসারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন মিলা। সেখানে তিনি আগুন-সন্ত্রাসের শিকার নুসরাত জাহান রাফির সঙ্গে নিজের তুলনা করে বলেন, ‘কত কত জীবিত নুসরাত। আইনের কাছে দাঁড়ান দিনের পর দিন, কিন্তু না মেরে ফেলা পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো আওয়াজ উঠবে না।’ গত শনিবার মিলার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করলেন সাবেক স্বামী বৈমানিক পারভেজ সানজারি। ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মিলার সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার কারণ ব্যাখ্যা করে একটি স্ট্যাটাস দেন পারভেজ। তিনি লেখেন- গত এক বছর ধরে আইনগতভাবে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। সে আমার স্ত্রী না। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে আইনের বিচারেই তা সঠিক কিনা প্রমাণ হবে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj