পরিবারই আমার প্রতিষ্ঠান : ফারহিন খান জয়িতা

শনিবার, ৪ মে ২০১৯

ফারহিন খান জয়িতা বীন্দ্রসঙ্গীতের চর্চায় এ প্রজন্মের সেরা শিল্পীর তালিকায় নিজেকে অনন্য করে তুলেছেন তিনি। গানের চর্চা শুরু ছোটবেলা থেকেই। বেড়ে উঠেছেন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। বাবা খালেদ খান দেশের বরেণ্য অভিনেতা। আর মা মিতা হক দুই বাংলার জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। ফলে পারিবারিক আবহে সঙ্গীতের হাতেখড়ি। পরবর্তী সময় সঙ্গীতের সাধনায় তৈরি করেছেন নিজের অবস্থান। সঙ্গীত চর্চার নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ভোরের কাগজের মুখোমুখি হয়েছিলেন ফারহিন খান জয়িতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহনাজ জাহান

সঙ্গীতের হাতেখড়ি

আমার তো পরিবার থেকেই সঙ্গীতের হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি আমার মা-বাবা দুজনই গানের মানুষ। মা তো সঙ্গীতকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। আমার প্রথম গান শেখা মায়ের কাছেই। আমার নানা বাড়ি, দাদা বাড়ির প্রায় সবাই গানের চর্চার মধ্যে রয়েছে। তাদের দেখেও আমার গানের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠেছে। গানের বিষয়ে আমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, পরিবারই আমার প্রতিষ্ঠান।

সঙ্গীত নিয়ে ব্যস্ততা

গানের চর্চার মধ্যে তো আছিই। এখন তো গান প্রকাশের ধরনও কিছুটা বদলে গেছে। এখন আগের মতো আর অ্যালবাম প্রকাশ হয় না। এখন নতুন ফরম্যাটে গান প্রকাশ হচ্ছে। অনলাইনে গান প্রকাশ হচ্ছে, গানের ভিডিও তৈরি হচ্ছে। আমিও নতুন ফরম্যাটে গান প্রকাশ করছি, সময়ে সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই। সামনে নতুন আরো কিছু গান প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সঙ্গীতের ফিউশন

ফিউশন শব্দটাকে আমি আসলে মনে করি নানা রকম নিরীক্ষার জায়গা। তবে এটুকু বলব, ফিউশন বা নিরীক্ষা যদি যোগ্য লোকের হাতে হয় তবে সমস্যা নাই। কিন্তু আমাদের অনেক অযোগ্য লোকের হাতে নিরীক্ষার নামে অনেক ভালো গানের আবেদন নষ্ট হচ্ছে। নিরীক্ষা অবশ্যই ইতিবাচক। মানুষ মাত্রই নতুনের সন্ধান করে। আমিও নতুনের পক্ষে। কিন্তু নতুন কিছু সৃষ্টি করতে গিয়ে যেন পুরাতন ভালোটাকে নষ্ট না করি।

মিউজিক ভিডিও

গানের ভিডিও নির্মাণ বিষয়টিকে আমি নেতিবাচকভাবে দেখি না। এটা সময়ের দাবি। কিন্তু ভিডিও যদি গানের আবেদনটা নষ্ট করে তবে সেটা নিয়ে ভাবার আছে। ভিডিওর চাপে যেন গানের মূল আবেদনটা নষ্ট না হয়। আমার গানের সঙ্গেও ভিডিও নির্মাণ করছি। তবে আগে যেমন অ্যালবাম প্রকাশ হতো সেই বিষয়টা ভীষণ মিস করি। একটা অ্যালবামে অনেক গান থাকত। দোকানে দোকানে ঘুরে ঘুরে অ্যালবাম কিনতাম। সেটা ভীষণ আনন্দের একটা বিষয় ছিল। এখন সহজেই অনলাইনে সব গান পাওয়া যাচ্ছে। এখন আর দোকানে দোকানে ঘুলে অ্যালবাম কেনার আনন্দটা নাই।

এ প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশে

আমি নিজেও এ প্রজন্মের শিল্পী। তাই আমার সহশিল্পী বা এ প্রজন্মের শিল্পীদের

বলব, গানটা যেন আনন্দ নিয়ে করে। নতুন কোনো নিরীক্ষা করতে গিয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে গানের মূল ভাবটা যেন নষ্ট না হয়। যন্ত্র কিংবা টেকনোলজির চাপে যেন গানের মূল আবেদনটা নষ্ট না হয়।

জয়িতার অ্যালবাম

এখন পর্যন্ত আমার চারটা গানের অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে তিনটা অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে কলকাতার ভাবনা রেকর্ডস থেকে। আর অন্যটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj