রবীন্দ্রচর্চা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন : হেমন্ত প্রাচ্য

শনিবার, ৪ মে ২০১৯

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তিনদিনের অনুষ্ঠানমালা। এবারের আয়োজনের ¯েøাগান- ‘নূতন তব জন্ম লাগি কাতর যত প্রাণী- কর ত্রাণ মহাপ্রাণ, আন অমৃতবাণী’। বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার আয়োজনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এর আগে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। এরপর সংস্থার শিল্পীরা পর পর সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘হে নূতন দেখা দিক আর- বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ’ ও ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’ গান দুটি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সালমা আকবর ও পীযুষ বড়ুয়া। সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সহসভাপতি ও শিল্পী প্রমোদ দত্ত।

অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিন সংস্থার ২৫ শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বিভিন্ন পর্যায়ের গান পরিবেশন করেন। এদিন শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন আবদুল ওয়াদুদ, সাঈদা হোসেন পাপড়ি, রাবেয়া আক্তার, শাকিল হাশমি, নাসরিন আক্তার, সেলিনা হুদা, টিপু চৌধুরী, সুমাইয়া ফারাহ খান, কাকলী গোস্বামী, মেহনাজ হোসেন, সুচিত্রা চক্রবর্তী, শিল্পী রায়, সুমি চক্রবর্তী, উত্তম সাহা, টিংকু শীলসহ আরো অনেকে। তারা একে একে পরিবেশন করেন- আমার এই পথে চাওয়াতেই আনন্দ, সখী ভাবনারে কারে কয়, সেই তো আমি চাই, তোমায় গান শোনাব, বিরহ মধুর হলো আজি, কোন সুদূর হতে আমার, মেঘ বলেছে যাব যাব, অনেক কথা যাও যে বলে, আমি তোমারি মাটির কন্যা, মনে রবে কিনা রবে আমারে ইত্যাদি। অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় একই মিলনায়তনে আবৃত্তি ও সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিবেশন করেন সংস্থার শিল্পীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পীরা।

তাদের মধ্যে ছিলেন- সাজেদ আকবর, গোলাম হায়দার, সালমা আকবর, মাহজাবীন মৈত্রী, মীরা মণ্ডল, মিতা দে, তনুশ্রী দীপক, মামুন জাহিদ খান, অভিক দে, আজিজুর রহমান তুহিন, মকবুল জয়ন্ত আচার্যসহ অনেকে। আজ শনিবার শেষ হবে তিন দিনের অনুষ্ঠানমালা। সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথি থাকবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। সভাপতিত্ব করবেন সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন সাধারণ সম্পাদক সাজেদ আকবর।

সমাপনী সন্ধ্যায় সংস্থার অর্ধশতাধিক শিল্পী একক ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি কয়েকজন খ্যাতিমান শিল্পী পরিবেশন করবেন আবৃত্তি। এ ছাড়া সমাপনী আয়োজনে দেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতগুরু ও বাংলা খেয়ালের ¯্রষ্টা ড. আজাদ রহমানকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করবে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা।

রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের চেতনার অংশ। আমাদের নিজেদের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্যই বেশি বেশি রবীন্দ্রচর্চা করে যেতে হবে। তারই অংশ হিসেবে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা প্রতি বছরের মতো এ আয়োজন করেছে। রবীন্দ্রচর্চা আমাদের ছড়িয়ে দিতে হবে দেশজুড়ে। সেই প্রয়াস নিয়েই আমরা এই আয়োজনটি করেছি।’

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj