ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়ণকেন্দ্র সংকট : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে

মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই জলবায়ু বিপদাপন্ন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের হুমকির মধ্যে থাকা পৃথিবীর সবচাইতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানকার একটি নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে বরাবরাই প্রশ্ন থেকে যায়। বৈশাখ মাস এলে দেশের উপক‚লীয় এলাকার আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন দেখতে পাই। গতকাল ভোরের কাগজে এমনই একটি প্রতিবেদনে কক্সবাজার আশ্রয়ণকেন্দ্রে নানা অনিয়মের কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার একমাত্র দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে দুর্যোগের সময় আশ্রয় নেয়ার জন্য যে সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে তা খুবই অপ্রতুল। এর মধ্যে সরকারি হিসাব অনুযায়ী যে ৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে তার ৩৩টিই ব্যবহারের অনুপযোগী। আবার যেগুলো ব্যবহারের উপযোগী তার বেশকিছু রয়েছে প্রভাবশালীদের দখলে। অনেকে আবার আশ্রয়কেন্দ্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। এই চিত্র শুধু মহেশখালীতে নয়, উপক‚লীয় এলাকার অন্যান্য জেলাতে এ ধরনের খবর দেখতে পাই। এমন প্রতিবেদন উদ্বেগজনক হলেও বিস্ময়কর নয়। ১৯৯১ সালে ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা হয়নি। এদিনে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপক‚লীয় অঞ্চলে নেমে আসে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এ অঞ্চলের মানব সভ্যতা। এদিন মৃত্যু ঘটে নানা বয়সের হাজারো মানুষের। সেইসঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি হয় গৃহপালিত পশু, মৎস্য, কৃষিসহ নানা সম্পদের। এখনো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন এ অঞ্চলের মানুষ। ফলে এ অঞ্চলের সামাজিক নিরাপত্তা এখনো রয়েছে হুমকির মুখে। কারণ বেড়িবাঁধগুলো বছরের পর বছর অরক্ষিত থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ে সামাজিক নিরাপত্তার অন্যতম উৎস হচ্ছে সাইক্লোন শেল্টার। এখানেও নির্মিত হয়নি পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার। উপক‚লীয় জেলাগুলোতে প্রায় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছোট-বড় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াস ও নিম্নচাপের শিকার হয়। মাত্রা ও তীব্রতা বেশি হলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয় লাখ লাখ মানুষকে। আমরা চাই, কক্সবাজারের পাশাপাশি গোটা উপক‚লীয় অঞ্চলেই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের স্বল্পতা দূর করতে উদ্যোগ গৃহীত হোক। বস্তুত ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ¡াসের মতো দুর্যোগে সতর্কীকরণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিও প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে উপক‚লীয় বাঁধ সংস্কার ও পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতেই হবে। আশ্রয়কেন্দ্রের অপ্রতুলতার পাশাপাশি ঘরবাড়ির নিরাপত্তাহীনতা কীভাবে দূর করা যায়, ভাবতে হবে দীর্ঘমেয়াদে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj