আউটফিল্ড : সৌম্যর পথ চলা

মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

কিছুদিন আগেও সৌম্য সরকারের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে টাইগার ভক্তদের মাঝে সমালোচনা চলছিল। বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগ মুহূর্তে নির্বাচকরা তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। তাই মুখে কিছু না বলে সমালোচনার জবাব ব্যাটে দিলেন সৌম্য। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শেষ ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এই প্রথম কোনো ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখালেন সৌম্য সরকার। এ ছাড়াও এ ম্যাচে বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে ছক্কা বৃষ্টিতে মেতেছিলেন সৌম্য সরকার।

১৯৯৩ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন টাইগার এ ওপেনার। ছোটবেলায় ক্রিকেটের প্রতি এতটা আকর্ষণ ছিল না সৌম্যের। তিনি বলেছেন ক্রিকেটার না হলে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতেন।

ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খুলনা বিভাগের হয়ে তার অভিষেক ঘটেছিল ৪-৭ অক্টোবর, ২০১০ সালে। একই বছর নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলে ওয়ানডে অভিষেক হয় সৌম্য সরকারের। এ ম্যাচে তিনি ১৮ বলে ৪ বাউন্ডারির সাহায্যে ২০ রান সংগ্রহ করেন।

২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল নিজের ক্যারিয়ারের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে প্রথম শতক হাঁকান সৌম্য। এই ম্যাচে ১১০ বল মোকাবেলা করে অপরাজিত ১২৭ রান তোলেন। তার এ ইনিংসটিতে ছয়টি ছক্কা ও ১৩টি চারের মার ছিল। এরপর ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয়। তবে ঝড়ের গতিতে ক্যারিয়ার শুরু করলেও আসন্ন বিশ্বকাপের আগে বেশ কিছুদিন ধরেই রান খরায় ভুগছিলেন সৌম্য সরকার। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দিকে ভালো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না। তাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আবাহনীর হয়ে ব্যাট হতে রান তৃষ্ণাটা মেটালেন তিনি। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করে শেখ জামাল।

জবাবে খেলতে নেমে সৌম্যর শুরুটা ছিল একটু ধীরগতির। হাফসেঞ্চুরি করতে তার লাগে ৫২ বল। তবে ফিফটির পরই হঠাৎ গর্জে ওঠে তার ব্যাট। ৭৮ বলেই পূরণ করে ফেলেন সেঞ্চুরি। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের এটা ষষ্ঠ শতক। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০৪ বলে ১৫০ রান পূরণ করেন। এরপর অপরাজিত থেকে ২০৮ রান তুলতে মোকাবেলা করেছেন ১৫৩ বল। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে দ্বিতীয়বারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি পেলেন সৌম্য। আগেরটি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে, ২০১২ যুব এশিয়া কাপে কাতারের বিপক্ষে বাঁ-হাতি ওপেনার করেছিলেন ২০৯ রান।

:: খেলা প্রতিবেদক

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj