এফসি বায়ার্ন মিউনিখ : ক্লাব পরিচিতি

মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

এফসি বায়ার্ন মিউনিখ জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের রাজধানী মিউনিখে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় জার্মান ফুটবল দল। ফুটবলের ইতিহাসে সফলতম দলগুলোর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখ অন্যতম। শুধু জার্মানি নয়, ইউরোপেরই অন্যতম প্রভাবশালী ক্লাব এই বায়ার্ন। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ক্লাবটির সুবিশাল সমর্থক গোষ্ঠী। এমনকি খোদ বাংলাদেশেই আছে বায়ার্নের অফিসিয়াল ফ্যান গ্রুপ। বায়ার্ন মিউনিখের সদস্য সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার যা বিশ্বের অন্য যে কোনো সদস্যভিত্তিক ফুটবল ক্লাবের থেকে বেশি। ফুটবল ছাড়াও বায়ার্ন দাবা, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল, জিমন্যাস্টিকস, বোলিং ও টেবিল টেনিস খেলার দল গঠন করেছে।

বায়ার্নের সাফল্য যে কোনো ক্লাবের জন্য ঈর্ষণীয় হলেও ক্লাবটির শুরুটা ছিল খুবই সাদামাটা। ক্লাবটির জন্ম ১৯০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মিউনিখ সিটি সেন্টারের রেস্টুরেন্ট গিসেলাতে। মাত্র ১৭ জন ব্যক্তির দলিল স্বাক্ষরের মাধ্যমে জন্ম হয়েছিল এই জার্মান জায়ান্টের। এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ফ্রানৎস জন নামের এক জার্মান ফটোগ্রাফার, যিনি বায়ার্নের প্রথম ক্লাব প্রেসিডেন্ট।

বুন্দেসলিগার উদ্ভব হয় ১৯৬৩ সালে। রেকর্ডসংখ্যক ২৮টি বুন্দেসলিগা শিরোপা ও ১৮টি ডিএফবি পোকাল কাপ নিয়ে বায়ার্ন অবিসংবাদিতভাবে জার্মান ফুটবলের সবচেয়ে সেরা ক্লাব। দলটি ১টি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা, ২টি আন্তঃমহাদেশীয় কাপ, ৫টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা, ১টি উয়েফা কাপ শিরোপা, ১টি উয়েফা কাপ উইনার্স কাপ শিরোপা, ১টি উয়েফা সুপার কাপ শিরোপা, ৭টি ডিএফএল সুপার কাপ শিরোপা এবং ৬টি ডিএফবি লিগাপোকাল শিরোপা জিতেছে। বর্তমানে বায়ার্নের অর্থনৈতিক কাঠামো যে কোনো ক্লাবের জন্য আদর্শ হলেও একসময় ক্লাবটির এমন সুসময় ছিল না। অর্থনৈতিক দীনতায় জর্জরিত হয়ে ক্লাবটি এক সময় সিদ্ধান্ত নেয় দামি তারকা কেনার বদলে তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলার, যাদের হাতেই থাকবে বায়ার্নের ভবিষ্যৎ। আর এই প্রকল্প থেকেই বের হয়ে আসেন ক্লাবটির ‘সোনালি ত্রয়ী’ হিসেবে পরিচিত তিন বিশ্বমানের ফুটবলার জার্ড মুলার, সেপ মেইয়ার ও ফ্রানৎস বেকেনবাওয়ার। বায়ার্ন এই মুহূর্তে বিশ্বের চতুর্থ ধনী ফুটবল ক্লাব। কিন্তু নিজেদের তরুণ ফুটবলার গড়ে তোলার প্রকল্প থেকে তারা এখনো সরে আসেনি। থমাস মুলার, ম্যাটস হামেলস, টনি ক্রুস, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগার, ডেভিড আলাবা- বর্তমান এই তারকা ফুটবলারদের ক্যারিয়ার শুরু হয় বায়ার্নের একাডেমি থেকে। বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার ফিলিপ লামের সারা জীবন কেটেছে বায়ার্ন মিউনিখেই। মাত্র ১১ বছর বয়সে ক্লাবে যোগ দেয়া এই ফুটবলার যখন অবসর নেন, ততদিনে তিনি বায়ার্নের হয়ে খেলে ফেলেছেন মোট ৫১৭টি ম্যাচ।

:: খেলা ডেস্ক

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj