সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

সিলেট ব্যুরো : বাস থেকে ফেলে দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ধারা পরিবর্তনসহ বেশ কয়েক দফা দাবিতে সিলেটে সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন ধর্মঘট পালন করে পরিবহন শ্রমিকরা। সিলেট সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা এ ধর্মঘটে গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ যাত্রীদের।

গতকাল সকাল থেকেই সিলেটের সঙ্গে কার্যত সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ ছিল বিচ্ছিন্ন। সিলেটের কদমতলী টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বন্ধ ছিল অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটের যান চলাচল। রিকশা ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন চলতে দেয়া হয়নি। কিছু কিছু অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি বের হলেও শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাদেরও।

এদিকে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের। নগরীর বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থী বহনকারী গাড়িও আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন সিলেট বিভাগীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক।

তিনি বলেন, আমরা কোনো ধর্মঘট করছি না, এটা শ্রমিকদের কর্মবিরতি। এখানে পরীক্ষার্থী ও জরুরি সেবার গাড়িগুলো কেউ আটকেছে বলে আমি শুনিনি, বরং শ্রমকিরা স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন বলে জানান তিনি। হত্যা মামলার আসামি বাঁচাতে এ কর্মবিরতি কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাসচালক ও হেলপারের গ্রেপ্তারে আমাদের আপত্তি নেই। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মামলায় ৩০২ ধারা যুক্ত করার প্রতিবাদ আমরা আগে থেকেই জানিয়ে আসছিলাম। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো- গত ২৩ মার্চ মৌলভীবাজার থানায় দুর্ঘটনা মামলা (নং-২২ (৩)১৯) থেকে দণ্ডবিধি ৩০২ এর স্থলে ৩০৪ ধারা লাগাতে হবে। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ১০৫ ধারায় জরিমানার পরিমাণ ৫ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা করতে হবে। এই আইনে ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ ধারাকে জামিনযোগ্য করতে হবে। এই আইনের ৮৪ ও ৯৮ পৃথক ধারা দুটিতে জরিমানা ৩ লাখের স্থলে ৩০ হাজার করে করা। জটিল দুর্ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ধারা নির্ধারণ এবং তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।

এক জেলার গাড়ি অন্য জেলায় রিকুইজিশন না করা। রিকুইজিশনের সময়ে চালকের খোরাকি ও গাড়ির জ¦ালানি যথাযথভাবে প্রদান করতে হবে।

মহাসড়কে তল্লাশির নামে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে, জেলার যে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি তল্লাশির ব্যবস্থা রাখতে হবে। কথায় কথায় রং পার্কিংয়ের নামে হয়রানি বন্ধ করা, রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা বিক্রি বন্ধ করা। রেকারিংয়ের নামে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং সড়ক-মহাসড়কে বিভিন্ন সেতুতে টোল আদায় বন্ধ করার দাবি জানান শ্রমিকরা।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj