প্রসঙ্গ সাইবার ক্রাইম

রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

বিশ্বায়নের যুগে আমাদের দেশে বা সারাবিশ্বে কম্পিউটার এবং স্মার্ট ডিভাইসের সঙ্গে পরিচয় নেই এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রযুক্তির উৎকর্ষে সাধারণ মানুষও আজ ইন্টারনেট বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অভ্যস্ত। তবে প্রতিটি ভালো দিকের মন্দ দিক রয়েছে তা অবশ্যই বলার অপেক্ষা রাখে না। কে প্রযুক্তিকে কিভাবে ব্যবহার করবে তা নির্ভর করছে তার নৈতিক শিক্ষা ও উদ্দেশ্যের ওপর। তবে প্রযুক্তির যে কোনো অপব্যবহার অবশ্যই অপরাধ। লিখেছেন ক্র্যাফের সভাপতি জেনিফার আলম

সাইবার ক্রাইম বা অপরাধ বলতে বুঝায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটিয়ে সাইবার স্পেসে অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হওয়া। মাধ্যম হিসেবে যেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে কম্পিউটার, ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল ডিভাইস এবং এর মধ্যমে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে অনুমতি বিহীনভাবে প্রবেশ করে কোন ধরনের ক্ষতি সাধন করা হয়। যা হতে পারে আর্থিক, ব্যক্তিগত গোপন তথ্য, ব্যক্তি বা তার পরিবার ও সহকর্মীদের পরিচয় সংশ্লিষ্ট তথ্য চুরি বা ক্ষতিসাধন করে সেটিকে প্রাথমিকভাবে সাইবার ক্রাইম বলা যায়। জীবন যখন ইন্টারনেটে, তখন প্রতি মুহূর্তে প্রতিটি তথ্যের জন্য কেউ না কেউ ইন্টারনেটে সার্চ তো দিয়েই চলেছে। আর এই সার্চ করতে গিয়ে অনেক সাইটে নিজের অজান্তেই দিতে হচ্ছে ব্যক্তিগত ই-মেইল অ্যাড্রেস, নাম, পেশা, অবস্থান। এই যে আমাদের তথ্য প্রদান তা নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সার্ভারে সংরক্ষিত হচ্ছে। এখন সেই সার্ভারটি যদি শিকার হয় ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার অ্যাটাকের তখন কিন্তু ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন। সহজে বলতে গেলে সাইবার সিকিউরিটি হচ্ছে সেই ধরনের সুরক্ষা যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কানেক্টেড সিস্টেমগুলোর সঙ্গে সঙ্গে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং ডাটাকে সুরক্ষা করে কোন ধরনের সাইবার অ্যাটাক থেকে। দেশের প্রেক্ষিতে সাইবার ক্রাইম সাধারণত হয়- পরিচয় চুরি ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, সাইবার বুলিং, ইন্টারনেট ফ্রড, এটিএম ফ্রড, ওয়্যার ফ্রড, ফাইল শেয়ারিং ও পাইরেসি, ডিজিটাল জালিয়াতি, চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি, মুদ্রা পাচার ও জাল, স্প্যাম, হ্যাকিং, কম্পিউটার ভাইরাস। এ ছাড়াও, ডস অ্যাটাক (ডিন্যায়াল অফ সার্ভিস অ্যাটাক) স্প্যাম, স্টেগানোগ্রাফি এবং ই-মেইল হ্যাকিং স্যাবটাজ সাইবার ক্রাইম থেকে বাঁচতে হলে-

এক. পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন। কারণ একই নেটওয়ার্কের অধীনে থাকা ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ হ্যাকার চাইলেই নিতে পারে।

দুই. বিয়ের আগেই হোক কিংবা পরে, সম্পর্ক থাক বা না থাক এমন কোন ছবি কখনোই তোলা বা শেয়ার করা উচিত নয় যা কোন তৃতীয় ব্যক্তি দেখলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

তিন. ছবি ১০০ বার ডিলিট করলেও তা রিকভার করার সম্ভাবনা থেকেই যায়, তাই স্পর্শ কাতর ছবি তোলা থেকে বিরত থাকুন। নিজের ব্যবহৃত পুরনো ফোনও বিক্রয় করা থেকে বিরত থাকুন।

চার. যাই ঘটুক না কেন নিজের ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড অন্যকে দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

পাঁচ. বিশেষ করে ফেসবুক বা ইমোতে কোন ধরনের ব্যক্তিগত ছবি আদান-প্রদান করবেন না। যদি ইতিমধ্যে শেয়ার করে থাকেন, তবে সম্পূর্ণ কনভারসেশন মুছে দিন। একজনের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয় তবে অপরজনও বিপদে পরবেন।

ছয়. কোন লিংকে ক্লিক করার আগে কমপক্ষে দুইবার ভাবুন। কারণ ম্যালওয়্যার লিংকে ক্লিক পরে গেলে আপনার অ্যাকাউন্টের এক্সেস হ্যাকারের কাছে চলে যাবে।

সাত. দোকানে ফোন ঠিক করতে দিলে ঠিক না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকুন।

আট. অনলাইনে ডলার বা পাউন্ড বিনিময় করা থেকে বিরত থাকুন। যেহেতু আইনের দৃষ্টিতে এটি অবৈধ। পরবর্তীতে কোন সমস্যায় পরলে বা ডলার বিক্রয় করতে গিয়ে ধরা পরলে আপনি আইনি সহায়তা পাবেন না।

নয়. অনলাইনে পণ্য কিনলে ভালো করে যাচাই করে নিন।

দশ. সাইবার ক্রাইম, অনলাইন ব্লু্যাকমেইল, অনলাইনে ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি এই সংক্রান্ত যে কোনো ধরণের সমস্যায় দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন।

:: ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj