দেশের পঞ্চম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা

শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ২টি অনুষদে ৩০ জন করে মোট ৬০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকায় শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার দেশের পঞ্চম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে খুলনায়।

২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনার খালিশপুরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রæতি দেন। ২০১৫ সালের ৫ জুলাই জাতীয় সংসদে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান খানকে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন, ১৩ ফেব্রুয়ারি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে অনুষদ ও শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন পায়। মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন পেয়ে ৯ মার্চ খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৩ ও ১৪ মার্চ শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বিল পাসের প্রায় ৪ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বশেষ ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশনের মধ্য দিয়ে স্নাতক শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান খান।

এরই মাধ্যমে সূচিত হলো দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। দক্ষিণাঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালুর মাধ্যমে একদিকে যেমন এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। কৃষি বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ করবে বিশ্ববিদ্যালয়টি। সেই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে বিশ্বমানের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করবে। প্রাথমিকভাবে ভেটেরিনারি এনিম্যাল এন্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্স এবং কৃষি অনুষদ নিয়ে শুরু হলেও আগামীতে তা বাড়বে। দক্ষিণ অঞ্চলে কৃষির উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় ভালো অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দেরও।

এক সময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও চিংড়ি-কাঁকড়া উৎপাদনে ভরপুর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও বন্দরের উন্নয়নকে গলা চেপে ধরা হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অবিশ্বাসীদের সীমাহীন অবহেলার শিকার হয়েছিল এই অঞ্চল। এই বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণাঞ্চলকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষি ও বিজ্ঞানের উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন জ্ঞান বিস্তার ঘটানোর যে অঙ্গীকার খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে আছে, তা দেশের কৃষিতে বিপ্লবের জন্য যথেষ্ট।

ইতিমধ্যে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাতটি অনুষদের অধীন ৫১টি বিভাগ খোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার প্রথম প্রকল্পের ১২ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নগরীর দৌলতপুরে ১০৮ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ৫ বছর মেয়াদি ভেটেরিনারি, এনিম্যাল এন্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সে অনুষদ এবং ৪ বছরমেয়াদি কৃষি অনুষদে ৩০ জন করে মোট ৬০ শিক্ষার্থী এ বছর ভর্তি করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় কৃষিতে স্বয়ংসম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

মো. রেজোয়ান হোসেন

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, গোপালগঞ্জ।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj