মঙ্গলে টিম রাফি : তাহমিদ মুরসালিন রুবাব

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

২০ অক্টোবর, ২৩৬৯ সাল। উত্তেজনায় রাফির বুক ধকধক করছে। আর মাত্র ৫ ঘণ্টা বাকি মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে। আল্লাহ ওদের বাঁচালে ওরাই প্রথম মঙ্গল গ্রহে পা দেবে। মঙ্গল গ্রহে অক্সিজেনের স্বল্পতা, তেজস্ক্রিয় রশ্মি, ঠাণ্ডা আবহাওয়া- এসব নিয়ে ১১ বছর গবেষণা করেছে ওরা। শেষে ওরা একটা বিশেষ পোশাক তৈরি করেছে, যার নাম ‘stilopia acrofat’। এর ভেতরে সর্বাঙ্গে থাকবে Hosy (গরম বাতাস দেয়া এসি)। ওরা গ্যাসের জন্য রকেটের পেছনে আরেকটা রকেট লাগিয়ে দিয়েছে। তাতে ৬ মণ ওজনের ৫০০টা গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। ওখানে যেতে একটা কাচের ব্রিজ ব্যবহার করতে হয়। আর তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে বাঁচতে ওরা ‘stilopia acrofat’ এর বাইরে দিয়েছে এক প্রকার পুরু আবরণ। আর চোখে থাকবে এক প্রকার গøাস। অক্সিজেনের সিলিন্ডার ওরা আলাদা রকেটেই নিয়েছে। যাই হোক, ৫ ঘণ্টা পরেই ওরা যেহেতু মঙ্গল গ্রহে নামবে, সেহেতু ওরা ওদের ‘জপাব’ি নামক অদ্ভুত স্বাদের হালুয়াটা খেয়ে নিল।

এতে ওদের পুরো পাঁচ দিনের খিদে তেষ্টা শেষ। ওদের সঙ্গে এই হালুয়া আরো বড় বক্সে অনেক আছে।

পাঁচ ঘণ্টা পর ওদের মঙ্গল গ্রহে নামতে হবে। অনেক পরিশ্রম করতে হবে, তাই রকেট চালক রাফি ও তার সহকারী সাইদ ছাড়া সবাই ঘুমিয়ে গেল নিশ্চিন্তে।

৫ ঘণ্টা পর….

রাফিরা এখন মঙ্গল গ্রহে! এখানে একটা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করছে! ওরা সবাই ‘ংঃরষড়ঢ়রধ ধপৎড়ভধঃ’ পরে নিয়েছে। পাহাড়ের রং লাল! একটা ক্রিকেট ক্যাপের ওপর রূপকথার ডাইনির নাক কেটে লাগিয়ে দিলে যেরকম দেখাত, পাহাড়টার আকারটা অনেকটা সেরকম। যাই হোক, পাহাড়ের ছবি এঁকে নিয়েছে অপু নামের এক সদস্য। পাহাড়ের গাছগুলোর ছবিও আঁকছে সে। ওর কাজই হচ্ছে মঙ্গল গ্রহের বিভিন্ন জিনিসের ছবি আঁকা। তানভীর এই দলের তথ্য লেখক। গাছগুলো নীল, কেমন যেন মিষ্টি গন্ধ আসে। আরো অনেক গাছ আছে, সেসবের তথ্য লিখছে তানভীর। অন্যরা নানা জিনিস খুঁজছে।

হঠাৎ হামীম নামের এক সদস্য দৌড়ে এল, বলল- একটা খয়েরি রংয়ের পানির হ্রদের পাশে সে গরু ছাগল মুরগি ভেড়া মেশানো অদ্ভুত কিছু প্রাণী দেখেছে। শুনে রাফি লাফিয়ে উঠল, চেঁচিয়ে ডাকতে লাগল তার দলের বাকি সদস্য বালাদ, তাওহীদ, রাসেল, তানজীম আর প্রান্তকে। ‘জলদি চল হ্রদের পাশে হামীম চারমেশালি প্রাণী দেখেছে’।

সবাই ছুটে এসে যা দেখল, তাতে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা! ওই প্রাণীদের দেহটা গরুর, মাথা ছাগলের, লেজ ও ঠোঁট মুরগির (বড়), পা পশম ভেড়ার। তানভীর তো ভীষণ উত্তেজিত হয়ে তার কাজ শুরু করে দিল। হঠাৎ করে, কীভাবে কেউ জানে না, একটা প্রাণী ওদের দেখে ফেলল! দেখেই পিলে চমকানো এক ডাক ছাড়ল! অন্যগুলোও চমকে ফিরে তাকালো, কিন্তু এমন শান্ত দৃষ্টি যে ওরা বুঝল না- হিং¯্র প্রাণীগুলো আসলে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বালাদ বলল- বাহ্ কি শান্ত!

তানজীম বলল- ধুর গরু ছাগল মুরগি ভেড়া এগুলো কি হিং¯্র নাকি!

ওরা এসব বলার সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণ! প্রাণীগুলো এমন আক্রমণ করল যে দৌড়ে ফুরসত পাওয়া গেল না।

দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁফ ধরে গেল সবার। কোনো মতে রকেটে উঠে স্টার্ট করল রাফি! বালাদ যখন উঠতে যাবে তখন তো একটা প্রাণী ওকে প্রায় কামড়ে দিচ্ছিল। কামড় বসাতে পারলে পুরো একটা পা নিয়ে যেত, কিন্তু শেষ মুহূর্তে কামড়াতে পারল না! তানভীর বেশ লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রকেটের একপাশে বসে বাকি তথ্য লিখতে থাকল!

রাফি মনে মনে বলল ‘বিদায় মঙ্গল!’

:: চতুর্থ শ্রেণি, আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা।

ইষ্টিকুটুম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj