নুসরাত মানে বাংলাদেশ : মোর্জিনা মতিন কবিতা

শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

নুসরাতকে আমি চিনি না। তবে এই নামের অনেক মেয়েকেই চিনি। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বান্ধবী, সিনিয়র-জুনিয়র অনেকেই রয়েছেন নুসরাত নামে। সাহসের নামে, আত্মসম্মানের নামে। কেননা, সাহস আর আত্মসম্মান না থাকলে নুসরাত হওয়া যায় না। নুসরাত জাহান রাফি হওয়া যায় না। একটা জীবন দান করে দেয়া যায় না, পুরুষতন্ত্রের জন্য।

নুসরাতের হাত-পা ওড়না দিয়ে বেঁধে, ছাদের ওপর ফেলে রেখে, গলা থেকে পা পর্যন্ত কেরোসিন ঢেলে, আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল। তার মুখ ঢেকে রাখা হয়েছিল আগুনদাতাদের একজনের হাত দিয়ে, যাতে নুসরাত চিৎকার করে সাহায্যকারীর সাহায্য প্রার্থনা করতে না পারে। এতে করে, নুসরাত মরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে সেই না-পোড়া মুখে, চিৎকার করে প্রতিবাদ জানিয়ে যেতে পেরেছিল। সমস্ত শরীর ছিল তার অকেজো, যে সামান্যটুকু তার অবশিষ্ট ছিল- নুসরাতের মুমূর্ষু গলার কম্পমান আওয়াজ, তাতে করে সে মৃত্যুভয় রেখে যায়নি, রেখে গেছে আমাদের জন্য এক মৌলিক দায়। মৌলিক অধিকারের মতোই মৌলিক দায়, যা ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা নিরর্থক।

নুসরাত তাকে অসম্মান করার শেষ দেখে যেতে চেয়েছিল। সে নিজেই শেষ হয়ে গেল। শুরুটা করে দিয়ে গেল আমাদের। সারা বাংলাদেশের কাছে সে বিচার দাবি করে গেল। এদেশের সব নারী নুসরাতের মতো করে না মরুক, অন্তত নুসরাতের মতো করে, বাঁচার মতো করে বাঁচুক। জীবন থাকা পর্যন্ত সে যেমন হারেনি, তেমনি বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহূর্তে আমরা যেন অন্যায়ের প্রতিবাদে গড়ে তুলি সাম্যবাদ। নুসরাত মানে আপনি, নুসরাত মানে আমি। নুসরাত মানে বাংলাদেশ…

:: পাফোস-১১৪৮৫, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj