কি পরীক্ষা করাবেন, কখন করাবেন কেন করাবেন? : ডা. লিয়াকত হোসেন তপন

শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

মানুষের জীবনকাল সীমিত। অনন্তকাল কেউ বেঁচে থাকতে পারে না। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব দায়দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করতে হয়। দৈহিক ও মানসিক সুস্থতার

জন্য কিছু কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ওহাবংঃরমধঃরড়হ) করতে হয়। সময়মতো

একটি পরীক্ষা অনেক পরীক্ষা থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই সুস্থতার

সময়েও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কিছু কিছু পরীক্ষা বা চেক আপের দরকার।

সেদিন রাতে চেম্বারে আগত এক ভদ্রলোক বললেন, ‘আমার দাদা, বাবা ও বড় ভাই হৃদরোগে মারা গেছেন। বর্তমানে আমার কোনো রোগ নেই। হার্ট এটাকের ঝুঁকিতে আছি কিনা তা বুঝার জন্য কি কি পরীক্ষা করাব?’

মানুষের জীবনকাল সীমিত। অনন্তকাল কেউ বেঁচে থাকতে পারে না। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব দায়দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করতে হয়। দৈহিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য কিছু কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ওহাবংঃরমধঃরড়হ) করতে হয়। সময়মতো একটি পরীক্ষা অনেক পরীক্ষা থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই সুস্থতার সময়েও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কিছু কিছু পরীক্ষা বা চেক আপের দরকার।

রক্তের গ্রুপ (ইষড়ড়ফ এৎড়ঁঢ়)-

প্রতিটি প্রাপ্ত-অপ্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের নিজের রক্তের গ্রুপ জানা জরুরি। কহড়ি ুড়ঁৎ ড়হি ইষড়ড়ফ এৎড়ঁঢ়. রক্তদান এবং অসুস্থতায় রক্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপের ভূমিকা অদ্বিতীয়।

রক্তে শর্করা (ইষড়ড়ফ ঝঁমধৎ)-

বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২৫% মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাই জীবনযাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন ও চিকিৎসা প্রয়োজন। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৬ মাসে অন্তত ১ বার রক্তে শর্করা পরিমাপ (ঋইঝ ্ ২ঐঅইঋ) করা উচিত। কারো কারো ঐইঅ১ঈ করাও দরকার।

ইসিজি ও ইকো-

পৃথিবীতে হঠাৎ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হার্ট এটাক (ঐবধৎঃ অঃঃধপশ). হার্ট এটাকের ঝুঁকি বা সম্ভাবনা নির্ণয় ও প্রতিরোধের জন্য প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি (ঊঈএ ্ ঊঈঐঙ) পরীক্ষা করা দরকার। ইসিজির মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক অবস্থা এবং ইকোর মাধ্যমে হৃদযন্ত্র বা হার্টের গঠন (অহধঃড়সু) ও কাজ (চযুংরড়ষড়মু) ভালোভাবে জানা যায়। তাই প্রতি বছর ঊঈএ ও ঊঈঐঙ করা প্রয়োজন।

বুকের এক্স-রে-

কাশি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা বুকব্যথায় বুকের এক্স-রে গুরুত্বপূর্ণ। ফুসফুসের ক্যানসার, হার্ট ফেইলিওর এবং নিউমোনিয়া নির্ণয়ে ঢ-ৎধু ঈযবংঃ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। বিশেষত ধূমপায়ীদের ছয় মাস পরপর বুকের এক্স-রে করা প্রয়োজন।

রক্তে চর্বি (খরঢ়রফ চৎড়ভরষব)-

বয়স্কদের হার্ট এটাক ও স্ট্রোকের জন্য অন্যতম পূর্ব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা রক্তে উচ্চমাত্রায় চর্বি থাকা। সুস্থতার জন্য এবং এসব রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতি বছর খালি পেটে রক্তের চর্বি (ঋধংঃরহম খরঢ়রফ ঢ়ৎড়ভরষব) পরিমাপ করা উচিত।

পেটের আলট্রাসনোগ্রাফি (টঝএ ড়ভ অনফড়সবহ)-

আলট্রাসনোগ্রাফি বা আলট্রাসাউন্ড একটি নিরাপদ ও ব্যথাহীন পরীক্ষা যার মাধ্যমে পেটের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন- গলব্লুাডার, কিডনি, লিভার, প্যানক্রিয়াস, স্পিøন (ঝঢ়ষববহ) ও ইউটেরাসের গঠন, কাজ ও রোগ বুঝা যায়। সেই সঙ্গে পুরুষের প্রস্টেট গ্রন্থির অবস্থা টঝএ ধনফড়সবহ করে খুব সহজেই জানা যায়। চল্লিশোর্ধ প্রতিটি মানুষের অন্তত বছরে একবার পেটের টষঃৎধংড়ঁহফ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

চোখ পরীক্ষা-

দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও চোখের বিভিন্ন অভিযোগশূন্য (ধংুসঢ়ঃড়সধঃরপ) রোগের চিকিৎসার জন্য প্রতি বছর চোখের ডাক্তারের মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা করা দরকার।

নাক-কান-গলা পরীক্ষা-

নাক, কান, গলা ও মুখ গহŸরের যে কোনো সমস্যা ছাড়াও বছরে কমপক্ষে একবার নাক-কান-গলার চিকিৎসক (ঊঘঞ ংঢ়বপরধষরংঃ) কর্তৃক পরীক্ষা করা ভালো।

শেষ কথা-

বিভিন্ন রুটিন বা ধারাবাহিক পরীক্ষার পাশাপাশি যে কোনো দৈহিক বা মানসিক সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দরকারি পরীক্ষা করাতে হবে। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য প্রযোজ্য পরীক্ষা সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা যথাসময়ে করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে অর্থ নষ্ট করা যাবে না। ছোট রাস্তার পাশের দালাল নির্ভর বালতি-টেস্ট ল্যাবে পরীক্ষা না করে মান সম্পন্ন ভালো প্রতিষ্ঠানে বা ল্যাবে সব পরীক্ষা (ওহাবংঃরমধঃরড়হ) করাতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি প্রযোজ্য পরীক্ষা করে যেতে হবে।

অধ্যক্ষ

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, গোপালগঞ্জ।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj