যদি প্রতœতত্ত্ব নিয়ে পড়ি

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, প্রকৌশল কত রকম বিষয় আছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। কোন বিষয়ে আমি পড়ব, সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। তারপরও যদি কেউ পড়তে চান প্রতœতত্ত্ব নিয়ে তবে আজকের ফিচারে আপনি পাবেন এই সম্পর্কে কিছু তথ্য-

দেশের প্রতœতত্ত্বের যে পরিমাণ ‘রিসোর্স’ রয়েছে, সেগুলোকে কাজের আওতায় আনতে চাইলে এখনো প্রায় ২০০ বছরের কাজ বাকি আছে। উত্তরবঙ্গে যে পরিমাণ ‘সাইট’ আছে, তার মধ্যে গত ২০০ বছরে কাজ হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ সাইট নিয়ে। কাজের সুযোগ দিন দিন তৈরি হচ্ছে। ইতিহাসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তথ্য বাড়ছে, জ্ঞান বাড়ছে, একই সঙ্গে বিশ্ববাসী আবিষ্কার করছে তাদের সবকিছু জানতে হবে। এই জানার জায়গায় মানুষের আগ্রহ এখন সব সীমা অতিক্রম করেছে। এখানেই প্রতœতত্ত্বের কাজ। কিন্তু প্রতœতাত্তি¡কদের চাহিদাই বাড়ছে শুধু, আরো পৃষ্ঠপোষক প্রয়োজন। পুরো উত্তরবঙ্গের ইতিহাস জানা দরকার। প্রতœতাত্তি¡কদের সা¤প্রতিক আবিষ্কার বলছে, এখানকার বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনের বিকাশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ দর্শনের উৎস হিসেবে কাজ করেছে। জানতে না চাইলেও তারা তো জানতে চাইছে তাদের উৎসকে। তাই সব মিলিয়ে বিষয় হিসেবে প্রতœতত্ত্বের ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল।

দেশে জাদুঘরগুলোতে প্রতœতাত্তি¡কদের নিয়োগ দেয়া হলে সেখানে কাজ করার সুযোগ থাকছে। তা ছাড়া, বাংলাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতœতাত্তি¡ক ঐতিহ্যগুলোকে বাঁচাতে হলে সারাদেশে প্রতœতাত্তি¡ক ছড়াতে হবে। উন্নত পর্যায়ে না হোক, অন্তত প্রাথমিকভাবে প্রতœতত্ত্বের চর্চাটা যেন কলেজগুলোতে হয়। যেন পাশেই থাকা একটা ভাঙা জমিদারবাড়ি বা মন্দির, মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঢাকা থেকে কাউকে যেতে না হয়। এ জন্য আমরা কলেজগুলোতে প্রতœতত্ত্ব বিষয়টা ছড়াতে চাইছি। আমরা বিসিএসে কোটা চাইছি এবং সে কাজটাও অনেক দূর এগিয়েছে।

এ ছাড়াও, এখন প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর আছে। সরকারের ‘প্যান একাডেমিক ডিপার্টমেন্ট’-এর প্রায় সব বিভাগেই প্রতœতাত্তি¡কেরা কাজ করতে পারেন। যেহেতু মাটির নিচে আমাদের ঐতিহ্য আছে, আর আমাদের অঞ্চলটা ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্ব এবং গৌরব ধারণ করে আছে, এ কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসাসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠানের মাটি কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোনো কাজে প্রতœতাত্তি¡কদের প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী প্রতœতত্ত্বের প্রতি সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সারাবিশ্বের আগ্রহ ভারত এবং বাংলাদেশের দিকে। গত পাঁচ বছরে এডিবি প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করেছে। এটা আরো বাড়ত, যদি পেশাদার প্রতœতাত্তি¡কদের একটা প্ল্যাটফর্ম থাকত। সেটা তৈরির কাজ চলছে। তৈরি হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের আরো সুযোগ তৈরি হবে। ‘আর্কিওলজিক্যাল ট্যুরিজম’-এর জন্য প্রতিবছর ইউরোপীয় পর্যটকদের ৪৬ শতাংশ আসে ভারতে। তাই আর্কিওলজিক্যাল ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করার জন্য প্রচুর প্রতœতাত্তি¡ক প্রয়োজন। অতএব সুযোগটা ক্রমেই বাড়ছে। যারা একসঙ্গে অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে চায়, তাদের প্রতœতত্ত্ব পড়া উচিত। ছোটবেলা থেকে যারা ইতিহাস, যুক্তি নিয়ে আগ্রহী, যারা একধাপ এগিয়ে ভাবতে পারে। কারণ, মাটির নিচে থাকা কোনো প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শনকে ওপর থেকে দেখেই বুঝতে হবে কোথা থেকে কাটতে হবে, যেন সেটার ক্ষতি করে বেশি তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj